টানা বৃষ্টিতে জলের তোড়ে ধস নামল রাস্তায়, বন্ধ যান চলাচল

road-collapses-in-Bhatar.jpg

রাস্তায় ধস নামার পর পরিদর্শনে ভাতারের বিধায়ক মানগোবিন্দ অধিকারী

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: কয়েক দিনের লাগাতার বৃষ্টিতে ধস নেমে জলের তলায় চলে গেল রাস্তা। পূর্ব বর্ধমানের ভাতার থানার কামারপাড়া রোডে ওই এলাকায় একটি সেতু নির্মাণ হচ্ছে। তাই পাশে অস্থায়ী ওই রাস্তাটি তৈরি করেছিল পূর্ত দপ্তর। কিন্তু বৃষ্টির জলে ধস নামায় বুধবার দুপুর থেকে গুরুত্বপূর্ণ ওই রাস্তায় যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শুধুমাত্র পুলিশের নজরদারিতে ছোট কিছু গাড়িকে ধীরে ধীরে রাস্তা দিয়ে পার করিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমন ঘটনার পর সেতুর কাজ দ্রুত শেষ করার দাবি জানিয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা।
এদিকে রাস্তায় ধস নামার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান ভাতারের তৃণমূল বিধায়ক মানগোবিন্দ অধিকারী। তিনি সরজমিনে বিষয়টি খতিয়ে দেখেন। রাস্তাটি দ্রত যাতে দ্রুত আগের অবস্থায় ফিরিরে আনা যায় সে ব্যাপারে পূর্ত দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
ভাতারের নারায়ণপুরের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সোমবার দুপুর থেকে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। তার পর থেকে টানা দু’দিন ধরে বৃষ্টি হয়েই চলেছে। ভাতার-কামারপাড়া রোডের নারায়ণপুর গ্রামের কাছে কাঁদরের উপর বহুকালের পুরোনো একটি সেতু ছিল। দীর্ঘ দিন ধরেই সেতুটি ছিল ভগ্নপ্রায়। শুধু তাই নয়, সেতুটি ছিল সংকীর্ণ। ফলে রাস্তা সম্প্রসারণের কাজের পর সংকীর্ণ ওই সেতুতে যাতায়াতে সমস্যা হত। তাই সেতুটি ভেঙে নতুন করে চওড়া সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় পূর্ত দপ্তর। সেই মতো সম্প্রতি কাজও শুরু করেছিল পূর্ত দপ্তর। নতুন সেতুর কাজের জন্যই পাশে কাঁদরের উপর একটি অস্থায়ী কজওয়ে তৈরি করা হয়। টানা বৃষ্টিতে ওই কজওয়ে প্লাবিত হয়ে গিয়েছে। পাশাপাশি রাস্তাতে ধস নেমে গিয়েছে। জলের স্রোত বেশি থাকায় ধস আরও বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এর জেরে ভাতার-কামারপাড়া রোডে বন্ধ করে দিতে হয়েছে ভারী যানবাহন চলাচল।
স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, এই রাস্তার দু’ধারে পর পর অনেকগুলি গ্রাম রয়েছে। বাসিন্দাদের কাছে এটাই যোগাযোগের অন্যতম রাস্তা। ফলে দ্রুত মেরামতের পাশাপাশি নতুন সেতু নির্মাণে জোর দেওয়া হলে সকলেই উপকৃত হবেন। এ প্রসঙ্গে এলাকার বিধায়ক মানগোবিন্দ অধিকারী জানিয়েছেন, রাস্তাটির গুরুত্বের কথা মাথায় রেখেই বিপর্যয়ের কথা জেনেই নিজে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছেন। পূর্ত দপ্তরের সঙ্গে তাঁর কথাবার্তা চলছে। জরুরি ভিত্তিতে যাতে রাস্তা মেরামতের ব্যবস্থা হয় সে বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top