ভুয়ো নথি দিয়ে রূপশ্রী প্রকল্পের টাকা হাতানোর নালিশ, বীরভূমে আট জনের নামে অভিযোগ দায়ের বিডিও-র

Rupashree-Scheme.jpg

প্রতীকী চিত্র

রামপুরহাট: জাল নথি দিয়ে রাজ্য সরকারের রূপশ্রী প্রকল্পের (Rupashree Scheme) টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠল বীরভূমের (Birbhum) নলহাটি ২ ব্লকে। বিষয়টি সামনে আসতেই প্রশাসনিক মহলে আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। আপাতত আট জন উপভোক্তার নাম সামনে এসেছে, যাঁরা ভুয়ো নথি দিয়ে প্রকল্পের টাকা পেয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন বিডিও। তবে এর পিছনে বড়সড় চক্র কাজ করছে বলেই ইঙ্গিত মিলছে। সেই চক্রের জাল কতদূর পর্যন্ত বিস্তৃত তা জানতে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে বীরভূম (Birbhum) জেলা প্রশাসন।
প্রশাসন সূত্রে খবর, গত ফেব্রুয়ারি মাসে বীরভূমের (Birbhum) নলহাটি-২ ব্লকের নোওয়াপাড়া এলাকার আট জন রূপশ্রী প্রকল্পের (Rupashree Scheme) ২৫ হাজার টাকা সরকারি অনুদানের জন্য আবেদন করেন। এই প্রকল্পের অন্যতম শর্ত হল বিয়ের কার্ড জমা দেওয়া। তাঁরা বিয়ের কার্ডের পাশাপাশি পঞ্চায়েত প্রধানের সার্টিফিকেট জমা দেন। তার ভিত্তিতে প্রকল্পের টাকাও পেয়ে যান। এই উপভোক্তারা হলেন মোমেনা খাতুন, রুবেনা খাতুন, হাসেনা খাতুন, লাসুনিয়া খাতুন, মুর্শেদা খাতুন, গৌরি মাল, আশা মাল এবং সমাপ্তি দাস। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, তাঁদের কারও আগেই বিয়ে হয়েছে তো কেউ স্বামী-সন্তান নিয়ে সংসার করছেন। ফলে ভুয়ো নথি দিয়ে সরকারি প্রকল্পে টাকা নেওয়ার বিষয়টি সামনে আসতেই নড়েচড়ে বসেন বীরভূম (Birbhum) জেলা প্রশাসনের কর্তারা। জেলা থেকে নির্দেশ মতো তদন্তের জন্য ছয় সদস্যের কমিটি গঠন হয়। এর পর তদন্তকারীরা এলাকায় গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে অভিযুক্ত উপভোক্তাদের ব্লক অফিসে তলব করেন। কিন্তু কেউ আসেননি বলে সূত্রের খবর। এর পরেই বিডিও হুমায়ুন চৌধুরী সংশ্লিষ্ট উপভোক্তাদের নামে অভিযোগ দায়ের করেন।
এদিকে বিষয়টি সামনে আসতেই পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ ও ব্লক প্রশাসনের মধ্যে দোষারোপের পালা শুরু হয়েছে। কারণ ব্লক প্রশাসনের দাবি, পঞ্চায়েত প্রধানের শংসাপত্র দেখেই প্রকল্পের টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এদিকে তৃণমূলের অভিযোগ, আধিকারিকরাই তদন্ত করে টাকা বরাদ্দ করেন। অর্থাৎ কোনও গন্ডগোল হয়ে থাকলে সেখান থেকেই হয়েছে। তবে পঞ্চায়েত প্রধান শংসাপত্র দিয়ে থাকলে তিনিও দায় এড়াতে পারেন না বলে মত তৃণমূল নেতৃত্বের।
অন্য দিকে একটি সূত্রে জানা যাচ্ছে, এলাকারই এক যুবক ওই উপভোক্তাদের পরিবারের লোকজনকে বুঝিয়ে নথি সংগ্রহ করেছিলেন। এবং মোটা টাকা কমিশনের ভিত্তিতে টাকা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলেছিলেন। অভিযুক্ত এক উপভোক্তার বাবা বলেন, ‘কয়েক বছর আগেই মেয়ের বিয়ে হয়েছে। কিন্তু গ্রামের এক যুবক এসে বলল, যারা রূপশ্রীর (Rupashree Scheme) টাকা পায়নি তাদের কাগজপত্র জমা নেওয়া হচ্ছে। সেই মতো দিয়েছিলাম। তবে টাকা পাওয়ার পর ওরা অর্ধেক নিয়ে নিয়েছিল।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top