পর পর কন্যাসন্তানের জন্ম দেওয়ায় বধূকে খুনের অভিযোগ, গ্রেপ্তার স্বামী

husband-arrested-in-Memari-for-killing-wife.jpg

বর্ধমান: শ্বশুরবাড়ির লোকজনের আশা ছিল পুত্রসন্তান হবে। কিন্তু পর পর কন্যাসন্তানের জন্ম দেওয়ায় এক বধূকে খুনের অভিযোগ উঠল স্বামী-সহ শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে। বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে এমন ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বিভিন্ন মহলের মানুষজন। মেমারি (Memari) থানার গন্ধর্বপুরের এই ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ ইতিমধ্যে মৃতার স্বামী বিশ্বজিৎ সরকারকে গ্রেপ্তার করেছে। পরিবারের বাকি সদস্যরা পলাতক।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত স্বামীকে মঙ্গলবার রাতে বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার ধৃতকে বর্ধমান আদালতে পেশ করা হয়। খুনের ঘটনার পুনর্নির্মাণ ও পালাতক অভিযুক্তদের হদিশ পেতে তদন্তকারী অফিসার ধৃতকে সাত দিন পুলিশ হেফাজতে নিতে চেয়ে আদালতে আবেদন জানান। সিজেএম ধৃতকে পাঁচ দিন পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কালনা থানার বেলকুলি গ্রামের বাসিন্দা শ্যামল কুমার ঘোষের মেয়ে শাশ্বতীর সঙ্গে ১৪ বছর আগে বিয়ে হয় মেমারির (Memari) গন্ধর্বপুরের বিশ্বজিতের। প্রথম দিকে সব কিছু ঠিকঠাকই চলছিল। কিন্তু শাশ্বতী কন্যা সন্তানের জন্ম দেওয়ার পর থেকেই অশান্তির সূত্রপাত। কন্যাসন্তানের জন্ম দেওয়ায় শ্বশুরবাড়িতে তাঁর উপর নির্যাতন শুরু হয়। তবে দ্বিতীয়বার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় শ্বশুরবাড়ির লোকজনের আশা ছিল, এ বার হয়তো পুত্র সন্তান হবে। কিন্তু দ্বিতীয়বারও কন্যা সন্তান হওয়ায় শাশ্বতীর উপর অত্যাচার আরও বাড়ে।
অত্যাচার বন্ধের জন্য বধূর বাপের বাড়ির লোকজন বেশ কয়েকবার আলোচনায় বসেছিলেন। কিন্তু অত্যাচার বন্ধ হয়নি। তারই মধ্যে মঙ্গলবার গভীর রাতে বিশ্বজিৎ শ্বশুরবাড়িতে ফোন করে স্ত্রীর মৃত্যু সংবাদ দেয়। শ্বশুরবাড়ির লোকজন পাহাড়হাটি হাসপাতালে পৌঁছে গিয়ে শাশ্বতীকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। শাশ্বতীর কপালে গভীর ক্ষতচিহ্ন ও গলায় কালশিটে দাগ দেখতে পেয়েছে বলে বাপের বাড়ির লোকজনের দাবি। যা দেখে তাঁদের অভিযোগ, শাশ্বতীকে খুন করা হয়েছে।
এই ঘটনার পর বধূর বাবা মেমারি (Memari) থানায় তাঁর জামাই সহ শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে মেয়েকে পিটিয়ে মারার অভিযোগ দায়ের করেন। তার ভিত্তিতে বধূ নির্যাতন ও পরিকল্পনা মাফিক খুনের ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। ইতিমধ্যে বধূর স্বামীকে গ্রেপ্তার করে তদন্ত শুরু করেছে। এদিকে এমন ঘটনার পর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, কন্যা সন্তানের জন্য খুন করার ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না। অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। যাতে এমন ঘটনা আর না ঘটে।

Theonlooker24x7.com সব খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে লাইক করুন ফেসবুক পেজ  ফলো করুন টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top