রাজ্যের উত্তর থেকে দক্ষিণে উদ্বেগের মধ্যে খানিক স্বস্তি দিচ্ছে হাওড়া

WhatsApp-Image-2021-05-05-at-3.52.31-PM.jpeg

কলকাতা: রাজ্যজুড়ে জেলায় জেলায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে করোনা। উত্তর থেকে দক্ষিণ, সর্বত্র লাগাম ছাড়াচ্ছে সংক্রমণ। তবে হাওড়ায় পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে। সেখানে আবার স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর সঙ্কট উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ মেডিক্যাল সূত্রে খবর, মঙ্গলবার সকাল সাতটা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় দুই মহিলা-সহ ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের বাড়ি রায়গঞ্জ, করণদিঘি ও মালদহের বিভিন্ন এলাকায়। হাসপাতালের সহকারী সুপার অভীক মাইতি বলেন, ‘মৃতরা শ্বাসকষ্ট-সহ বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছিলেন।’
জেলায় পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। হাসপাতালে শয্যার আকাল। পরিকাঠামোগত সমস্যার কারণে মৃদু উপসর্গযুক্ত রোগীদের বাড়িতে আইসোলেশনে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। পাশাপাশি বাড়ানো হচ্ছে কোভিড শয্যা ও ওয়ার্ডের সংখ্যা।
জেলার উপ মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক গৌতম মণ্ডল জানান, রায়গঞ্জ, ইসলামপুর মিলিয়ে কয়েকদিনের মধ্যেই ১৬০টি অতিরিক্ত শয্যা চালু হয়ে যাবে।
পাশাপাশি মানুষকে চূড়ান্ত সাবধানতা অবলম্বনের পরামর্শ দিচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্তারা।
করোনার দ্বিতীয় ঢেউ যে কতটা শক্তিশালী, গত বছরের গ্রাফের সঙ্গে তুলনাতেই স্পষ্ট হচ্ছে তা। তবু হুঁশ ফিরছে না বহু মানুষের।
এক স্বাস্থ্যকর্তার কথায়, ‘করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে মৃত্যুর হার বেশি। এটা চিন্তার। তবে, আমরা চেষ্টা করছি, চিকিৎসায় যাতে খামতি না থাকে।’
উত্তরবঙ্গের উত্তর দিনাজপুরের মতোই দক্ষিণের হুগলির অবস্থা উদ্বেগজনক।
সোমবার রাজ্যের তথ্য অনুযায়ী, হুগলিতে মোট আক্রান্ত ৪৪ হাজার ১৫৩ জন। মোট মৃত ৫৬৯ জন। গত ১০ দিনে গড়ে ৮০১.৭ জন সংক্রমিত হয়েছেন।
বরং কিছুটা স্বস্তির চিত্র হাওড়ায়। মার্চ, এপ্রিলে হু হু করে বাড়ার পর এখন কিছুটা কমেছে সংক্রমণ। পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, এপ্রিলের শেষ সপ্তাহ থেকে মে-র ৩ তারিখ পর্যন্ত দৈনিক সংক্রমণ কমেছে বেশ খানিকটা।
ভোটের জন সমাবেশ, রোড শো ইত্যাদি বন্ধের পাশাপাশি দেশের উদ্বেগজনক চিত্রে অনেকেই মাস্ক পরছেন। তাতে সংক্রমণে লাগাম পরানো অনেকখানি সম্ভব হচ্ছে বলে মত স্বাস্থ্যকর্তাদের। যদিও অক্সিজেন ও টিকার অভাব বাড়িয়েছে চিন্তা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top