দিঘায় হোটেলের ঘরে মালিককে খুন, কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা

IMG-20210620-WA0001.jpg

দিঘা: রহস্যজনক ভাবে মৃত্যু হল নিউ দিঘায় (New Digha) এক হোটেল মালিকের (Hotel Owner)। মৃত হোটেল মালিকের নাম সুব্রত সরকার (৬২)। শনিবার সকালে ‘সুমন’ নামে নিজের হোটেলেরই একটি ঘরে বিছানা থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। তাঁর গলায় দড়ির ফাঁস ও মুখের ওপর বালিশ চাপা অবস্থায় ছিল। এই ঘটনায় খুনের অভিযোগ তুলেছেন পরিবারের লোকজন। তার ভিত্তিতে মামলা রুজু করে তদন্তে নেমেছে দিঘা থানার পুলিশ। তবে হোটেলে ঢুকে কে বা কারা তাঁকে খুন করল তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে তদন্তকারীদের মধ্যেও।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সুব্রত আদতে হাওড়ার শিবপুরের বাসিন্দা। তিনি হোটেলের রিসেপশনের পাশে একটি ঘরে থাকতেন। রাজ্যে বিধিনিষেধের কারণে প্রায় এক মাস ধরে পরিবারের লোকজনও সুব্রতর সঙ্গেই হোটেলে ছিলেন। দিন কয়েক আগে সুব্রতর ছেলে পরিবারের অন্যদের নিয়ে হাওড়ার বাড়িতে চলে যান। তখন থেকে সুব্রত একাই ছিলেন। এছাড়া দেখভালের জন্য হোটেলে দু’জন কর্মী রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজন আবার ছুটি নিয়ে বাড়ি গিয়েছেন। শুক্রবার রাতে খাওয়াদাওয়ার পর অপর কর্মী তাঁর ঘরে শুতে চলে যান। এর পর এদিন সকালে মালিকের দেহ উদ্ধার হয়। হোটের এক কর্মীই প্রথম দেহটি পড়ে থাকতে দেখেন। পরে থানায় খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে হাওড়া থেকে আসেন পরিবারের লোকেরা। কী ভাবে এমন ঘটনা ঘটল তা তাঁরা বুঝে উঠতে পারছেন না।
এদিকে সুব্রতর গলায় ফাঁস এবং মুখে বালিশ চাপার পাশাপাশি ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় ছিল। সঙ্গে ঘরের আলমারিও খোলা অবস্থায় পাওয়া যায়। ঘরে ধস্তাধস্তির প্রমাণও মিলেছে। আবার প্রমাণ লোপাট করতে হোটেলের সিসি ক্যামেরার হার্ডডিস্কও খুলে নেয় আততায়ীরা। ফলে দুষ্কৃতীরা পরিকল্পনা করেই তাঁকে খুন করেছে বলে প্রাথমিক ভাবে মনে করছে পুলিশ। ঘরের জানালার কাচ ভাঙা থাকায় সেদিকেই দুষ্কৃতীরা ঢুকেছিল বলে অনুমান করা হচ্ছে।
তাঁকে খুন করার পিছনে কী উদ্দেশ্য রয়েছে তা নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। কারণ তাঁর সঙ্গে সে ভাবে কারও ঝামেলা ছিল বলে জানাতে পারেননি পরিবারের লোকজন। আবার করোনার প্রভাবে হোটেলে ব্যবসাও মন্দা। ফলে তাঁর কাছে টাকা থাকলেও সেটা বিরাট অঙ্কের বলে মনে করা হচ্ছে না। তাহলে কেন তাঁকে খুন করা হল, তা নিয়েই ভাবাচ্ছে তদন্তকারীদের। তবে আততায়ীরা সুব্রতর পূর্ব পরিচিত বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ তারা হোটেলের সব কিছুই জানতে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top