বিপুল অঙ্কের টাকার সরকারি গাছ কেটে বেআইনি ভাবে বিক্রির অভিযোগ

IMG-20210629-WA0004.jpg

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: বেআইনি ভাবে গাছ কেটে পাচার করে দেওয়ার অভিযোগ উঠলো। এই ঘটনায় গ্রাম পঞ্চায়েতের একাংশের মদত রয়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনা জানাজানি হতেই ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরে। গাছ কাটার ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে সোমবার পঞ্চায়েতের একাংশ সদস্য বিডিও, পঞ্চায়েত প্রধান-সহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছেন। অভিযোগ পাওয়ার পরেই নড়ে চড়ে বসেছেন প্রশাসনের কর্তারা।
জামালপুর ২ পঞ্চায়েতের চার সদস্য প্রশাসনিক দপ্তরে এদিন জানান, পঞ্চায়েত এলাকায় কারালাঘাট হয়ে রায়না যাওয়ার জন্য পূর্ত দপ্তরের এই রাস্তা রয়েছে। ওই রাস্তার উচিতপুরের আগে সেতু এলাকা পর্যন্ত রাস্তার দু’ধারে অনেক প্রকাণ্ড গাছ রয়েছে। সেই সব গাছ কাটার জন্য বন দপ্তর ও পূর্ত দপ্তরের কাছ থেকে লিখিত কোনও অনুমতি নেওয়া হয়নি। এমনকী গাছ কেটে বিক্রি সংক্রান্ত কোনও টেন্ডারও পঞ্চায়েত করেনি। অথচ গত ৪-৫ দিনে প্রায় ৪০টি গাছ কেটে পাচার করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে পঞ্চায়েতেরই একাংশের মদত রয়েছে বলে তাঁদের অভিযোগ। ঘটনায় জড়িত সকলের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
পঞ্চায়েত সদস্য হারাধন পাত্র ও সঞ্চয়িতা বাগ এদিন বলেন, ‘গত ২০-২৫ দিনের মধ্যে বজ্রপাতে জামালপুর ব্লকের সাত জন বাসিন্দার মৃত্যু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৃক্ষ ঘাটতি
ও দূষণ বৃদ্ধি মূলত কোনও এলাকায় বজ্রপাত বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ। এই সব জানার পরেও খোদ পঞ্চায়েত কর্তাদের মদতে বেআইনি ভাবে বৃক্ষ নিধন হচ্ছে। এই অপরাধ যাঁরা করছেন, তাঁদের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত।’
জামালপুরের শুড়েকালনার বাসিন্দা তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা নেতা প্রদীপ পাল বলেন, ‘পঞ্চায়েত সদস্যদের অভিযোগ যুক্তি সঙ্গত। পূর্ত দপ্তরের রাস্তার ধারে থাকা গাছ কাটার ব্যাপারে জামালপুর ২ পঞ্চায়েত কোনও নিয়মের তোয়াক্কা করেনি। অনুমতি না নিয়ে যে গাছ কাটা হয়েছে তার লক্ষ লক্ষ টাকা কোথায় যাবে? যাঁরা এই কাজে যুক্ত রয়েছেন, তাঁদের সবার শাস্তি হওয়া দরকার।’ প্রদীপ আরও বলেন, ‘সরকার স্বচ্ছ ভাবে পঞ্চায়েত চালানোর কথা বলেলেও জামালপুর ২ গ্রাম পঞ্চায়েত বেনিয়মের আখড়া হয়ে উঠেছে। নির্বাচিত পঞ্চায়েত সদস্য না হওয়া কয়েক জন ব্যক্তি এখন পঞ্চায়েতের দণ্ডমুণ্ডের কর্তা হয়ে উঠেছেন। এঁদের অঙ্গুলি হেলনেই নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের অন্ধকারে রেখে বেআইনি কাজ কর্ম হচ্ছে। এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার জামালপুর ২ পঞ্চায়েতে ডেপুটেশন জমা দেওয়ার কর্মসূচিও নেওয়া হয়েছে।’
সদস্যদের আনা অভিযোগ প্রসঙ্গে জামালপুর ২ পঞ্চায়েতের উপ-প্রধান উদয় দাস বলেন, ‘পঞ্চায়েত এলাকায় ৩৪টি গাছ কাটার ব্যাপারে ১১ জুন একটি রেজোলিউশন হয়। কিন্তু গাছকাটা সংক্রান্ত সব প্রক্রিয়া মানতে না পারার কারণে সেই ব্যাপারে আর এগোনো হয়নি। তবে ওই গাছগুলির পাহারাদার বা পাট্টাদার নিমাই মালিক নিজে দায়িত্ব নিয়ে গাছগুলি সম্প্রতি কেটেছেন। গাছ বিক্রি করে নিমাই ৩৫ হাজার টাকা এদিন পঞ্চায়েত অফিসে জমা দিয়ে গিয়েছেন।’ কিন্তু পঞ্চায়েত-সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের লিখিত অনুমতি না নিয়ে একজন পাহারাদার কী ভাবে পূর্ত দপ্তরের রাস্তার ধারে থাকা গাছগুলি কেটে বিক্রি করলেন তার কোনও উত্তর উপ-প্রধান এদিন দিতে পারেননি। বেআইনি ভাবে গাছ কেটে বিক্রি করার অর্থ পঞ্চায়েত কেন গ্রহণ করল? এর উত্তরে উপ-প্রধান জানান, তিনি পঞ্চায়েতের নিয়ম কানুনের ব্যাপারে বিশেষ কিছু জানেন না।
বিজেপির জামালপুর বিধানসভার আহ্বায়ক জিতেন ডকাল বলেন, ‘যে সব গাছ কেটে বিক্রি করা হয়েছে তার মূল্য বেশ কয়েক লক্ষ টাকা হবে। অথচ বলা হচ্ছে ওই সব গাছের মূল্য নাকি মাত্র ৩৫ হাজার টাকা। পুরোটাই গন্ডগোলের ব্যাপার। এ ক্ষেত্রে মদত না থাকলে বেআইনি ভাবে গাছ কেটে বিক্রি করার অর্থ পঞ্চায়েত গ্রহণ করত না।’
জামালপুরের বিডিও শুভঙ্কর মজুমদার বলেন, ‘অভিযোগপত্র পেয়েছি। অভিযোগের তদন্ত করার জন্যে পুলিশকে বলা হয়েছে। গাছ কাটার বিষয়ে কোনও অনিয়ম থাকলে আইন মাফিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top