বার বার লাইনে দাঁড়ইয়েও টিকা পাচ্ছেন না নির্বাচনী ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর খর্বকায় দুই ভাই

election-brand-ambassador.jpg

বিশেষ ভাবে সক্ষম ও প্রবীণদের ভোটদানে উৎসাহ জোগাতে প্রচার চালিয়েছিলেন এই দুই ভাই

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান
বিধানসভা ভোটের সময়ে ঢাকঢোল পিটিয়ে নির্বাচন কমিশনের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর করা হয়েছিল বিশেষ ভাবে সক্ষম খর্বকায় দুই ভাইকে। আর ভোট মিটে যেতেই তাঁরা এখন ব্রাত্য। তাই কোভিডের ভ্যাকসিনটুকুও পাচ্ছেন না ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হওয়া সঞ্জীব মণ্ডল ও মানিক মণ্ডল।
সঞ্জীব ও মানিকের বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের মেমারি বিধানসভার কলানবগ্রামে। বাড়িতে রয়েছেন বৃদ্ধা মা আন্না মণ্ডল। মাটির এক চিলতে বাড়িতেই তাঁরা বসবাস করেন। সরকারি ভাতার সামান্য কয়েকটা টাকা আর দু’চারটে গোরু-ছাগল, মুরগি প্রতিপালন করে সামন্য যেটুকু রোজগার হয় তা দিয়ে কোনও রকমে দু’বেলা দু’মুঠো মুখে ওঠে। এমনই এক হতদরিদ্র পরিবারের খর্বকায় ভাতৃদ্বয়কে ২০২১ বিধানসভা ভোটে ২৬৫ মেমারি বিধানসভার ভোট আইকন করা হয়। নির্বাচন কমিশনের ব্যবস্থাপনায় বিশেষ ভাবে সক্ষম এবং ৮০ ঊর্ধ্ব ভোটারদের ভোটদানে উৎসাহিত করার ব্যাপারে তাঁরাই হয়েছিলেন প্রধান মুখ।
কোভিড অতিমারীর মধ্যে এ বার এই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন হয়। তার জন্য নির্বাচন কমিশন বেশ কিছু নতুন নিয়ম জারি করে। বিশেষ ভাবে সক্ষম ও ৮০ ঊর্ধ্ব ভোটাররা যাতে পোস্টাল ব‍্যালটে ভোট দিতে পারেন তার ব্যবস্থা করে নির্বাচন কমিশন। এছাড়াও কোভিড রোগীরাও যাতে একই সুবিধা পান সেই ব্যবস্থাও কমিশন ধার্য করে। এই সমস্ত উদ্যোগ নিয়ে নির্বাচন কমিশন গোটা রাজ্য জুড়েই প্রচার শুরু করে। সেই কাজে নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা মেমারি বিধানসভার আধিকারিকরা আইকন হিসাবে বেছে নেন খর্বকায় দুই ভাই সঞ্জীব মণ্ডল ও মানিক মণ্ডলকে। ভোটের সময় নিঃস্বার্থ ভাবেই এই দুই ভাই ট্রাইসাইকেলে চড়ে গণতন্ত্রের সর্বশ্রেষ্ঠ উৎসবে সবাইকে অংশ নেওয়ার জন্য আহ্বান জানানোর কাজও চালিয়ে যান। তাঁদের এই কর্মকাণ্ড ভোটার মহলে যথেষ্ট সাড়া ফেলে। এখন ভোট মিটে গিয়েছে। আর ভোট মিটে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ব্রাত্য হয়ে গিয়েছেন দুই ভাই।
সঞ্জীব ও মানিকের আক্ষেপ, ‘ভোট শেষ হয়ে গিয়েছে। তাই এখন আর আমাদের কথা কেউ মনে রাখে না। মনে রাখেনি সরকারও। সেই কারণে কোভিডের তৃতীয় ঢেউয়ের আগেও আমরা ভ্যাকসিনটুকু পেলাম না। ভ্যাকসিনের জন্য অনেকবার পাল্লা রোডের স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়েছি। লাইনে দাঁড়িয়েছি। কিন্তু ভ্যাকসিন না পেয়ে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরতে হয়েছে।’ তাঁদের আরও বক্তব্য, ‘ভ্যাকসিনের জন্য বিডিও অফিসে মৌখিক ভাবে জানানো হয়েছিল। তাতেও সুরাহা হয়নি। এখন আদৌ টিকা মিলবে কি না জানি না।’
এ বিষয়ে মেমারি-১ বিডিও আলি মহম্মদ ওয়ালিউল্লাহ বলেন, ‘ওঁরা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। তবে বিষয়টি জানতে পেরেছি। খুব তাড়াতাড়ি ওঁদের ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা করা হবে।’

Theonlooker24x7.com সব খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে লাইক করুন ফেসবুক পেজ  ফলো করুন টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top