ফের দলের অন্দরে বিক্ষোভের মুখে দিলীপ, দলে পুরোনোদের গুরুত্ব দেওয়ার দাবি

BJP-ASANSOL.jpg

আসানসোলে দলীয় কার্যালয়ে বিক্ষোভ

onlooker desk: ফের দলের অন্দরে বিক্ষোভের মুখে পড়লেন দিলীপ ঘোষ। হুগলি জেলার চুঁচুড়ার পর এ বার পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোলে।
সোমবার আসানসোলে দলীয় কার্যালয়ে নেতাদের নিয়ে দিলীপ ঘোষ একটি বৈঠক করবেন বলে ঠিক ছিল। সেই মতো দলের সমস্ত স্তরের বহু নেতা আগে থেকেই অপেক্ষা করছিলেন। অভিযোগ, রাজ্য সভাপতি পৌঁছনোর পর জানিয়ে দেওয়া হয়, সবাইকে বৈঠকে রাখা যাবে না। এর পরেই শুরু হয় হইচই। বৈঠকে থাকার সুযোগ না পেয়ে বিক্ষুব্ধদের অনেকে বলতে থাকেন, নির্বাচনের সময় যাঁরা দলের হয়ে কাজ করেছেন, মার খেয়েছেন এবং যাঁদের অনেকে ভোটের ফল প্রকাশের পর ঘর ছাড়া তাঁদেরকেই বৈঠকে জায়গা দেওয়া হল না। অথচ শুধুমাত্র দলের জেলাস্তরের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং প্রার্থীদের রাখা হচ্ছে। এমনকী দলবদলু নেতাদেরও রাখা হচ্ছে। এ নিয়ে প্রবল বিক্ষোভ শুরু হয় পার্টি অফিসে।
এদিকে বিক্ষোভের মধ্যেই পার্টি অফিসের দরজা বন্ধ করে বৈঠকে আলোচনা শুরু হয়। তবে এতে বিক্ষুব্ধরা না থেমে বাইরে থেকে স্লোগান দিতে থাকেন। ক্ষুব্ধ নেতারা বলতে থাকেন, তাঁরা মার খেয়ে ময়দানে নেমে দলের জন্য কাজ করেছেন। এখন অনেকে ঘরে ফিরতে পারছেন না। রাজ্য সভাপতি অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। অথচ সেইমতো কোনও কাজই হয়নি। উল্টে এখন তাঁদের বৈঠকে থাকতে দেওয়া হচ্ছে না। এর জবাব রাজ্য সভাপতিকেই দিতে হবে।
এদিকে বিশৃঙ্খলা বাড়তে থাকায় এক সময় জেলার নেতারা বাইরে এসে কর্মীদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা কোনও কথা শুনতে চাননি। শেষমেশ জেলার নেতারা জানান, রাজ্য সভাপতি তাঁদের সঙ্গেও আলাদা করে আলোচনায় বসে তাঁদের কথা শুনবেন। পরে আদি বিজেপির নেতারা প্রধানত দু’টি প্রস্তাব লিখিত আকারে রাজ্য সভাপতিকে দেন। তাতে বলা হয়েছে, বিজেপির পুরোনো কাউকে জেলার সভাপতি করা হোক এবং পুরসভা নির্বাচনে প্রার্থী করার ক্ষেত্রে দলের পুরোনো কর্মীদের প্রাধান্য দেওয়া হোক।
এদিন বৈঠকে দিলীপ ঘোষ ছাড়াও ছিলেন দলের জেলা কনভেনার শিবরাম বর্মন, জেলা সভাপতি তথা বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘোড়ুই, রাজ্য মহিলা মোর্চার সভানেত্রী তথা বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পল, রাজ্য কমিটির সদস্য কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়, জিতেন্দ্র তেওয়ারি, জেলা যুব মোর্চার সভাপতি অরিজিৎ রায় প্রমুখ। বৈঠক শেষে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘এই জেলার সবাই বিধানসভা নির্বাচনে খুব পরিশ্রম করেছেন৷ জেলায় তিনটি কেন্দ্রে দলের প্রার্থীরা জিতেছেন। সবার একটা প্রত্যাশা ছিল যে, দল এ বার ক্ষমতায় আসবে। শক্তি বাড়লেও, দল ক্ষমতায় আসতে পারেনি। তার থেকেই দলের নেতা ও কর্মীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। এটাকে ক্ষোভ কোনও ভাবেই বলা যায় না। এটা সব জায়গাতেই হচ্ছে। আমরা তাদের মনোবল ফিরিয়ে আনতে পারছি। কেন হার হয়েছে তার পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সামনে পুরসভা ভোট এবং দেড় বছর পরে পঞ্চায়েত ভোট। আমরা এইসব ভোটে লড়াই দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top