বাড়ি থেকে শিশু পুত্র-সহ বধূর দেহ উদ্ধার, পলাতক স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ি

dead-body.jpg

প্রতীকী চিত্র

বর্ধমান: শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার হল সাত বছর বয়সী ছেলে ও তার মায়ের মৃতদেহ। ঘটনা জানাজানি হতেই শুক্রবার সকাল থেকে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষ থানার অমরপুর গ্রামে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ দু’টি উদ্ধার করে ময়না-তদন্তের জন্য বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদের নাম মহাদেব মালিক (৭) ও তার মা সুষমা মালিক (২৫)। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান সন্তানকে প্রাণে মারার পর মহিলা নিজে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন। অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে পুলিশ এই জোড়া মৃত্যুর ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনার পর থেকেই পলাতক স্বামী-সহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর আটেক আগে খণ্ডঘোষের অমরপুরের যুবক বিপুল মালিকের সঙ্গে বিয়ে হয় বাঁকুড়ার পাত্রসায়রের গোস্বামী গ্রামের তরুণী সুষমার। মৃতার দাদা প্রশান্ত দলুই বলেন, ‘বোনের বিবাহিত জীবন সুখের ছিল না। বিয়ের বছর দেড়েকের পর থেকেই স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে বোনের অশান্তি শুরু হয়। বাপেরবাড়ি থেকে টাকা আনার জন্যেও বোনের উপরে চাপ সৃষ্টি করা হত। এমনকী বোনের চরিত্র নিয়েও সন্দেহ করত শ্বশুরবাড়ির লোকজন। এই সব নিয়েই বোনের সংসারে অশান্তি হত। এর আগে বিষয়টি থানা পর্যন্ত গড়িয়েছিল। সে সময় পুলিশি হস্তক্ষেপে ঠিকঠাক হয়ে যায়। কিন্তু এ ভাবে বোন এবং তার সন্তানকে হারাবো ভাবতে পারিনি।’
মৃতার এক আত্মীয় বামাপদ দলুই জানান, বৃহস্পতিবার রাতে কি ঘটনা ঘটেছিল, তা তাঁদের কাছে পরিষ্কার নয়। একটা অঘটন ঘটেছে খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার রাতেই তাঁরা অমরপুরে সুষমার শ্বশুরবাড়িতে আসেন। কিন্তু বাড়িতে এসে প্রথমে সুষমার খোঁজ পাননি তাঁরা। উল্টে জানতে পারেন সুষমার স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ি গা ঢাকা দিয়েছে। এর পর প্রতিবেশীরা শ্বশুরবাড়ি থেকে সুষমার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করেন। একই জায়গা থেকে উদ্ধার হয়েছে ছেলে মহাদেবের দেহ। বধূর বাপের বাড়ির লোকজনের অভিযোগ, সুষমা ও তাঁর ছেলেকে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। যদিও এদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত খণ্ডঘোষ থানায় লিখিত কোনও অভিযোগ জমা পড়েনি বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এসডিপিও (বর্ধমান দক্ষিণ) আমিনুল ইসলাম খান বলেন, ‘অমরপুরে একটি বাড়ি থেকে এক বধূ ও তাঁর পুত্র সন্তানের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে তদন্ত শুরু করেছে। স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে সাংসারিক অশান্তি ছিল বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার পর থেকে মহিলার স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ি পলাতক। মৃতার বাপেরবাড়ির তরফে অভিযোগ দায়ের হলে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top