রাইস মিলের দূষণে ফসলের ক্ষতি, প্রতিবাদে আন্দোলনে নামলেন চাষিরা

Polish_20210612_225544281.jpg

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায় বর্ধমান: রাইস মিলের দূষণের জেরে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে চাষে। এ নিয়ে বার বার বলেও কোনও কাজ হয়নি। তাই দূষণের প্রতিবাদে এ বার জোরদার আন্দোলনে নামলেন পূর্ব বর্ধমানের গলির চাষিরা। দূষণে ফসলের ক্ষতি রুখতে হাতে প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন নিয়ে শনিবার ট্র্যাক্টর মিছিল করে গলসির একাধিক রাইস মিলের গেটে বিক্ষোভ দেখান চাষিরা। এ নিয়ে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যাপারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তাঁরা।
গলসির পারাজ, পুরসা ও কোলকোল এলাকার চাষিরা এদিনের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেন। চাষিদের অভিযোগ, রাইস মিলগুলি থেকে ব্যাপক হারে দূষণ ছড়াচ্ছে। এর জেরে চাষে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনা হয়েছিল। তার পর জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি দল দূষণের বাস্তব পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখে যাওয়ার পরেও পরিস্থিতির কোনও বদল ঘটেনি। এদিন চাষিরা হুঁশিয়ারি দেন, দূষণ নিয়ন্ত্রণে রাইস মিল কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা না নিলে আগামী দিনে তাঁরা আরও বৃহত্তর আন্দোলন শুরু করবেন। দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ চলার পর গলসি থানার পুলিশ এদিন চাষিদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া গলসির চাষি মিন্টু শ্যাম বলেন, ‘রাইস মিলের পচা জল ও ছাইয়ে গলসি এলাকায় কৃষি জমির ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। দূষণের কারণে জমির উর্বরতা হ্রাস পাচ্ছে। জমিতে ধানের ফলন দিনের পর দিন কমে যাচ্ছে। এমনকী মিলগুলি ভূগর্ভ থেকে গ্যালন গ্যালন জল তোলায় এলাকায় জলস্তর হু হু করে নেমে যাচ্ছে। এর জেরে এলাকায় পানীয় জলেরও সমস্যা দেখা দিচ্ছে। পাশাপাশি মিল থেকে নির্গত পচা দুর্গন্ধ যুক্ত জল ও ছাইয়ের গুঁড়োয় এলাকার পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। এই সবের জেরে ফলন মার খাওয়ায় সর্বস্বান্ত হচ্ছেন গলসির চাষিরা। বিষয়টি নিয়ে বার বার প্রশাসনের দ্বারস্থ হলেও কোনও সুরাহা হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে আমরা একজোট হয়ে আন্দোলনে নেমেছি।’ গলসির পারাজের বাসিন্দা আরএক চাষি শেখ নুরুল হাসান বলেন, ‘রাইসমিল কর্তৃপক্ষ থেকে প্রশাসনের বিভিন্ন জায়গায় সমস্যার কথা জানানো হলেও কোনও সুরাহা হয়নি। নিরুপায় হয়ে এখন আমাদের আন্দোলনের পথ বেছে নিতে হয়েছে। গত ৫ জুন জেলাশাসকের নির্দেশে জেলা প্রশাসনের একটি দল এলাকায় দূষণ পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখে যান। তার পরও অবস্থার কোনও পরিবর্তন হয়নি।’ রাইস মিল কর্তৃপক্ষ যদিও চাষিদের এদিনের অন্দোলন নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে কোনও প্রতিক্রিয়া দিতে চাননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top