শিশু-পরিবার নিয়ে জঙ্গলে তাঁবুতে দিন কাটছে ঘরছাড়া বিজেপি কর্মীদের, পাশে দাঁড়াল সিপিআইএমএল

Polish_20210611_013325713.jpg

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: বাড়ি ছাড়া হয়ে জঙ্গলে তাঁবু খাটিয়ে দিন কাটানো বিজেপিকর্মী পরিবারগুলির পাশে দাঁড়াননি দলের কোনও নেতা। মানবিকতার খাতিরে শেষ পর্যন্ত নকশাল নেতৃত্বই পাশে দাঁড়ালেন পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামের প্রেমগঞ্জ গ্রামের ঘরছাড়া বিজেপি কর্মীদের। বিজেপি কর্মীদের বাড়ি ফেরানোর ব্যবস্থা করার জন্য আউশগ্রাম-২ ব্লক পঞ্চায়েত সমিতির কাছে চিঠি লিখে আবেদন জানালেন সিপিআইএমএল (রেডস্টার) সংগঠনের বর্ধমান জেলা কমিটির সম্পাদক। এই ঘটনা সামনে আসতেই বিজেপি নেতাদের মুখ যথেষ্টই পুড়ল বলে মনে করছে জেলার রাজনৈতিক মহল।
আউশগ্রাম-২ ব্লকের প্রত্যন্ত গ্রাম প্রেমগঞ্জ। এ বারের বিধানসভা ভোটের ফল ঘোষণার পর প্রেমগঞ্জ গ্রামে বিজয় মিছিল করে তৃণমূল। তার পরেই গ্রামে রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করে। ঘরছাড়া বিজেপি কর্মী কমল বাগদি, বলরাম বাগদিরা বলেন, ‘তৃণমূলের বিজয় মিছিলে থাকা লোকজন বেছে বেছে এলাকার বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের বাড়িতে চড়াও হয়। বাড়ি ভাঙচুর, লুটপাটের পাশাপাশি মারধর শুরু হয়।’ এর পর প্রাণ ভয়ে ওই রাতেই প্রায় ২৫-৩০টি বিজেপি সমর্থক পরিবার বাড়ি ছাড়েন। তার পর থেকে এক মাসের বেশি হয়ে গেল তাঁরা প্রেমগঞ্জ থেকে অনেকটাই দূরে কাঁকসা লাগোয়া ভাতকুণ্ডা গ্রামের অদূরে জঙ্গলের ভিতরে দু’টি তাঁবুতে বসবাস করছেন। সঙ্গে ১০ জন শিশুও রয়েছে। কমল বাগদি জানান, বাড়ি ফিরলে ফের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের হামলার মুখে পড়তে হতে পারে, এই ভয়ে তাঁরা বাড়ি ফিরতে পারছেন না। আধপেটা খেয়ে তাঁবুতে অসহায় ভাবে দিন কাটিয়ে চললেও বিজেপি নেতারা কেউ পাশে দাঁড়াননি বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেন ঘরছাড়া বিজেপি কর্মীরা। তবে এই অসময়ে তাঁদের কিছুটা হলেও সহযোগিতা করছে একমাত্র নকশাল সংগঠন।
এই বিষয়ে সিপিআইএমএল (রেডস্টার)-এর জেলা সম্পাদক ফতেমা বেগম বলেন, ‘ঘরছাড়া অসহায় পরিবারগুলি রাজনৈতিক হিংসার শিকার। তাঁরা খুব কষ্টে দিন কাটচ্ছেন বলে মানবিক ভাবেই আমরা তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছি। ওই ঘরছাড়াদের ঘরে ফেরানোর ব্যবস্থা করার জন্য আউশগ্রাম-২ পঞ্চায়েত সমিতির কাছে চিঠি দিয়ে আবেদন জানিয়েছি।’ এ প্রসঙ্গে আউশগ্রাম-২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সৈয়দ হায়দর আলি বলেন, ‘যা হওয়ার হয়ে গিয়েছে। ওঁদের গ্রামে ফিরতে কেউ নিষেধ করেনি। ওঁরা গ্রামে ফিরুন, কোনও অসুবিধা নেই।’
জেলা বিজেপির সম্পাদক শ্যামল রায় বলেন, ‘ঘরছাড়াদের পাশে বিজেপি নেতারা দাঁড়ায়নি এই কথা সঠিক নয়। ওদের বিষয়ে প্রশাসনকে বলা হলেও কোনও কাজ হয়নি। বাড়ি ফিরলেই তৃণমূলের লোকজন ফের আক্রমণ করবে, এই ভয়ে ঘরছাড়ারা ঘরে ফিরতে পারছেন না।’ এদিকে আক্রমণের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। তাঁদের বক্তব্য, ভোটের আগে বিজেপির লোকজনই সর্বত্র হুমকি দিয়েছিল। এখন নিজেরাই ভয় পেয়ে পালিয়ে যাচ্ছেন। তৃণমূল নেতারাই বরং তাঁদের ঘরে ফেরানোর ব্যবস্থা করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top