১২ বছরেও হদিশ মেলেনি লালগড়ে অপহৃত কনস্টেবল সাবির ও কাঞ্চনের, এবার কি মৃত ঘোষণা!

Polish_20210730_200011369.jpg

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান
এক আধ বছরের অপেক্ষা নয়। দীর্ঘ ১২ বছর ধরে ছেলের জন্য পথ চেয়ে বসে আছেন দুই পুলিশ কন্টেবলের (constables) দুই মা। একজন কনস্টেবল (constables) সাবির মোল্লার সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধা মা জাহানারা বেগম। অপর জন সাবিরের সহকর্মী কাঞ্চন গড়াইয়ের মা বৃদ্ধা মিনতি গড়াই।
২০০৯ সালের ৩০ জুলাই পশ্চিম মেদিনীপুরের লালগড় (Lalgarh) থেকে অপহৃত হন এই দুই পুলিশ কনস্টেবল। দুই পুলিশ কনস্টেবল ছেলের কেউই সেই থেকে আর বাড়ি ফেরেননি। বাড়িতে বসে চোখের জল মুছতে মুছতে শুক্রবার সাবিরের মা জাহানারা বেগম বলেন, ‘১২ বছর আগে ছেলে ও ওর সহকর্মী কাঞ্চন গড়াইকে ধরমপুর পুলিশ ক্যাম্প থেকে লালগড় (Lalgarh) বাজারে ডিউটি করতে যাওয়ার পথে অপহরণ করা হয়। মাওবাদীরাই সাবির ও কাঞ্চনকে অরহরণ করে। তার পর থেকে ১২ বছর পেরিয়ে গেলেও আজও ওদের হদিশ (missing) নেই। এ বার হয়তো রাজ্য প্রশাসন মৃত বলেই ঘোষণা করে দেবে।’
জাহানারা বেগমের বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের মেমারি থানার তেলসরা গ্রামে। তাঁর স্বামী ইব্রাহিম মোল্লা ২০০২ সালে মারা গিয়েছেন। পরিবারটি মূলত কৃষিজীবী পরিবার। জাহানারার চার ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে সাবিরই সবার ছোট। সাবির পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের সশস্ত্র ব্যাটেলিয়নে কনস্টেবল (constable) পদে চাকরি পাওয়ায় পরিবারে সুদিন ফেরে। সাবিরের মেজ দাদা সামাদ মোল্লা এদিন বলেন, ‘২০০৬ সালে ব্যারাকপুরে ট্রেনিং সম্পূর্ণ করে ছোট ভাই সাবির মোল্লা। তার পর মাঝে কয়েক বছর অন্যত্র ডিউটি করে। ২০০৯ সালের ১৬ জুলাই পশ্চিম মেদিনীপুরের লালগড়ের (Lalgarh) ধরমপুর ক্যাম্পে পোস্টিং হয় ভাইয়ের। একই ক্যাম্পে পোস্টিং হয়েছিল বাঁকুড়ার ছাতনা থানার সুয়ারাবাকড়া গ্রামের যুবক কাঞ্চন গড়াইয়ের। বাড়িতে রয়েছে কাঞ্চনের বৃদ্ধ বাবা বাসুদেব গড়াই ও মা মিনতি গড়াই। কাঞ্চনই ছিল গড়াই পরিবারের একমাত্র রোজগেরে।’

constables missing in Lalgarh
সামাদ আরও বলেন, ‘২০০৯ সালের ৩০ জুলাই বিকালে একই বাইকে চেপে ধরমপুর পুলিশ ক্যাম্প থেকে লালগড় (Lalgarh) বাজারে ডিউটিতে যাচ্ছিল ভাই ও কাঞ্চন। মাঝপথে মাওবাদীরা ওদের অপহরণ করে। এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর সেই সময় রাজ্য প্রশাসনে তোলপাড় পড়ে যায়। পুলিশের শীর্ষ মহল নড়েচড়ে বসে। আজকের বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই সময়ে ছিলেন রাজ্যের প্রধান বিরোধী নেত্রী। তিনি আমাদের দুই পরিবারের পাশে দাঁড়ান। এমনকী আমাদের সঙ্গে নিয়ে উনি তৎকালীন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদাম্বরমের কাছে যান। কিন্তু এত সবের পরেও ১২ বছর পেরিয়ে গেল। ভাইদের কোনও হদিশ পাওয়া গেল না। এ বার হয়তো সরকারি নিয়ম মেনে রাজ্য প্রশাসন দু’জনকে মৃত বলে ঘোষণা করবে।’
রাজ্য রাজনীতিতে পালাবদল ঘটিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরেও দুই অপহৃত পুলিশ কনস্টেবলের পরিবারের কথা ভুলে যাননি। খাতায়-কলমে আজও সাবির মোল্লা ও কাঞ্চন গড়াই ‘মিসিং অন ডিউটি’ রয়েছেন। তবে সাবির মোল্লা ও কাঞ্চনের গড়াইয়ের চাকরির বেতনের টাকা প্রতি মাসে তাঁদের অবিভাবকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা পড়ে। ২০১৭ সালে রাজ্য সরকার সাবিরের এক দাদা সরিফ মোল্লা ও কাঞ্চনের ভাই তারক গড়াইয়ের চাকরির ব্যবস্থা করে।
তবে অন্য সব সুযোগ সুবিধা প্রাপ্তি হয়নি বলে এদিন জানান সাবির মোল্লার মা জাহানারা বেগম। বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠিও পাঠিয়েছেন। জাহানারা বলেন, ‘বেশ কয়েক বছর ধরে ছেলের ইনক্রিমেন্ট বন্ধ রয়েছে। ফলে পুরোনো বেতনই রয়েছে। রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারের বিমার কোনও অর্থ এখনও পাইনি। এমনকী ২০২০ সালের পে-কমিশনের সুবিধাও মেলেনি। মাওবাদী এলাকায় কর্মরত পুলিশকর্মীরা অতিরিক্ত ৩০ শতাংশ বেতন পাবেন বলে যে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল সেটাও মেলেনি। আগে ডিএ পেলেও এখন সেটা বন্ধ রয়েছে। এই বিষয়গুলি মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়েছি।’
এই বিষয়ে পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সহ-সভাধিপতি তথা তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যের মুখপত্র দেবু টুডু বলেন, ‘প্রথম থেকেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অপহৃত দুই পুলিশ কনস্টেবলের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। দুই পরিবারের এক জন করে চাকরির ব্যবস্থাও তিনি করে দিয়েছেন। ফলে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। মুখ্যমন্ত্রী ওই পরিবারগুলির বিষয়ে ওয়াকিবহাল রয়েছেন।’

Theonlooker24x7.com সব খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে লাইক করুন ফেসবুক পেজ  ফলো করুন টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top