কেতুগ্রামে বোমা বিস্ফোরণে উড়ে গেল আস্ত কংক্রিটের বাড়ি

Polish_20210723_010436283.jpg

বর্ধমান: মজুত বোমা বিস্ফোরণে বাড়ি ভেঙে পড়ার ঘটনা ঘটেই চলেছে পূর্ব বর্ধমানে। ভাতারের বাণেশ্বরপুরের পর বৃহস্পতিবার ভোররাতে বিস্ফোরণের জেরে ভেঙে পড়ল কেতুগ্রামের সুজাপুর গ্রামের সাক্ষীগোপাল ঘোষের বাড়ির একাংশ। স্থানীয় সূত্রে খবর, বিস্ফোরণে জখম হওয়া বাড়ির মালিক-সহ পরিবারের অন্যান্যরা ঘটনার পর থেকেই গা ঢাকা দিয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাড়িটি ঘিরে রাখে। এদিকে এই ঘটনার পর কেতুগ্রামে তুঙ্গে উঠেছে তৃণমূল ও বিজেপির তর্জা।
সুজাপুর গ্রামের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সাক্ষীগোপাল ঘোষের একতলা একটি পাকা বাড়ি রয়েছে। সেই বাড়িতে সাক্ষীগোপাল তাঁর স্ত্রী, ছেলে, পুত্রবধূ ও ভাই-সহ মোট ৬ জন সদস্য থাকেন। প্রতিবেশীরা জানান, এদিন ভোর রাতে বিকট আওয়াজে কেঁপে ওঠে এলাকা। তার পরেই এলাকার সবাই যে যাঁর ঘর থেকে বেরিয়ে দেখেন সাক্ষীগোপালের পাকা বাড়ির একাংশ ভেঙে পড়েছে। ঘটনা নিয়ে এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এলাকা সূত্রে খবর, বোমা বিস্ফোরণে সাক্ষীগোপাল ছাড়াও তাঁর ছেলে ও ভাই আহত হয়েছেন। তবে গ্রেপ্তারি এড়াতে ঘটনার পরেই আহতদের সবাইকে নিয়ে পালিয়ে যান পরিবারের বাকি সদস্যরা।
এদিকে বিস্ফোরণের খবর পেয়েই এদিন সকালে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় কেতুগ্রাম থানার পুলিশ। তদন্তে নেমে পুলিশ বাড়িটি খতিয়ে দেখে। বাড়িতে আর বোমা মজুত রাখা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখার জন্যে বম্ব স্কোয়াডে খবর দেওয়া হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ওই বাড়িতে মজুত থাকা একাধিক বোমা বোস্ফোরণ ঘটাতেই বাড়িটি এতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ধ্রুব দাস জানিয়েছেন, ‘পুলিশ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করছে।’
সুজাপুর গ্রামের বিস্ফোরণ প্রসঙ্গে বিজেপির পূর্ব বর্ধমান কাটোয়া সাংগঠনিক জেলার সভাপতি কৃষ্ণ ঘোষ বলেন, ‘সুজাপুর গ্রামে যাঁর বাড়িতে বিস্ফোরণ হয়েছে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের একজন সক্রিয় কর্মী। ওই বাড়িতেই বোমা মজুত রাখা হয়েছিল । কোনও ভাবে তাতে বিস্ফোরণ হয়ে যায়। তার পরেই বোমা মজুত রাখার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।’ এ ভাবে বোমা মজুতের ঘটনায় জড়িত সকলের কঠোর শাস্তির দাবি করেছেন বিজেপি নেতা। যদিও সাক্ষীগোপালের ছেলে শুভজিৎকে বিজেপিকর্মী বলে পাল্টা দাবি করেছে তৃণমূল। কেতুগ্রামের তৃণমূল বিধায়ক শেখ শাহনাওয়াজ বলেন, ‘আমার বিধানসভা এলাকা অনেক বড়। তার মধ্যে কে কাকে ভোট দিয়েছে বা কে কোন দলের সমর্থক অত খবর রাখা কারও পক্ষেই সম্ভব নয়। পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে৷ আইন আইনের পথে চলবে। কেউ দোষী হলে শাস্তি পাবেই।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top