অবিভাবকরা বিজেপি করায় শংসাপত্র পাচ্ছে না পাঁচ ‘কন্যাশ্রী’, অভিযোগ অস্বীকার তৃণমূল প্রধানের

kanyashree.jpg

এক অভিভাবককে সঙ্গে নিয়ে বিডিও-র দ্বারস্থ ছাত্রীরা

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: পরিবারের সদস্যরা বিজেপি করার পাঁচ ছাত্রীর শংসাপত্র আটকে দেওয়ার অভিযোগ উঠল তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে। পূর্ব বর্ধমানের ভাতারের এই ঘটনা সামনে আসতেই নানা মহলে সমালোচনা শুরু হয়েছে। ঘটনার প্রতিকার চেয়ে সোমবার ভাতারের বিডিও-র দ্বারস্থ হয় পাঁচ ছাত্রী। যদিও এমন অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবি করেছেন তৃণমূল পরিচালিত ওই পঞ্চায়েতের প্রধান।
ভাতারের আমারুন গ্রামের বাসিন্দা পাঁচ ছাত্রী মৌসুমী মালিক, সুচিত্রা দাস, ঋত্বিকা সরকার, কুসুম সরকার ও পল্লবী ঘোষ। সকলেই স্থানীয় আমারুন স্টেশন শিক্ষানিকেতনের পড়ুয়া। কেউ দশম, কেউ একাদশ বা দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী। রাজ্য সরকারের ‘কন্যাশ্রী প্রকল্পের’ অনুদানের জন্য স্কুল থেকে তাদের আবেদনপত্র জমা দিতে বলা হয়। প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী আবেদন জমা দেওয়ার সময় পঞ্চায়েতের কাছ থেকে পারিবারিক আয় এবং আবেদনকারী যে অবিবাহিতা সেই সংক্রান্ত শংসাপত্র লাগে। আর সেই শংসাপত্র নিয়েই সমস্যার সূত্রপাত।
ছাত্রী মৌসুমী মালিকের কথায়, ‘আমরা ওই দুই শংসাপত্রের জন্য একাধিকবার পঞ্চায়েত প্রধানের বাড়ি ও পঞ্চায়েত অফিসে গিয়েছি। কিন্তু প্রধান সাহেব আমাদের শংসাপত্র দিচ্ছেন না।’ ছাত্রীদের দাবি, তাদের অভিভাবকরা বিধানসভা ভোটের সময়ে বিজেপি হয়ে প্রচার করেছিলেন। সেই কারণেই প্রধান তাদের ফিরিয়ে দিচ্ছেন বলে তাদের অভিযোগে। অপর এক ছাত্রীর মা অতসীদেবী বলেন, ‘সরকারি প্রকল্প তো সকলের জন্যই। কিন্তু বাড়ির লোকজন বিজেপি করায় এখন তার মাসুল গুনতে হচ্ছে ছাত্রীদের। শুধুমাত্র পরিবার বিজেপি করায় পাঁচ ছাত্রীকে শংসাপত্র দিচ্ছেন না প্রধান। ফলে কন্যাশ্রী প্রকল্পে মেয়েরা আবেদনও করতে পারছে না। তাই বাধ্য হয়ে বিষয়টি বিডিওকে জানানো হয়েছে।’
যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আমারুন ১ পঞ্চায়েত প্রধান দীপক ভট্টাচার্য। তাঁর বক্তব্য, ‘কন্যাশ্রী প্রকল্পে সরকারি অনুদানের প্রয়োজন নেই বলে ওই ছাত্রীদের বাড়ির লোকেরাই বলেছিলেন। তবু ওই পাঁচ ছাত্রীর বাবাদের বলা হয়েছিল, পঞ্চায়েত অফিসে দেখা করতে। কারণ অভিভাবকরা ছাড়া নাবালিকা ছাত্রীদের শংসাপত্র দেওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু ওঁরা আসেননি। এলেই শংসাপত্র দিয়ে দেওয়া হবে।’ এ বিষয়ে জেলা পরিষদের সহ সভাধিপতি তথা রাজ্য তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র দেবু টুডু বলেন, ‘এ রকম তো হওয়ার কথা নয়। খোঁজ খবর নিয়ে দেখছি। যদি ঘটনা সত্যি হয়, তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top