ফুঁসছে ভাগীরথী, ওভারহেড তার জলে ঠেকে যাওয়ায় ৭ দিন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন দুই গ্রাম

Purbasthali.jpg

বিদ্যুৎ না থাকায় প্রবল গরমে তালপাতার পাখাই ভরসা ঝাউডাঙার বাসিন্দাদের

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান
কয়েক দিনের নাগাড়ে বৃষ্টিপাত ও তার সঙ্গে ডিভিসির জলাধার থেকে ছাড়া জলে ফুলে ফেঁপে উঠেছে ভাগীরথী। আর তাতেই ঘটেছে বিপত্তি। ভাগীরথীর জল ছুঁই ছুঁই ১১ হাজার ভোল্টেজের বিদ্যুৎ লাইনের তার। সেই কারণে সাত দিন ধরে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছে পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলী (Purbasthali) ২ ব্লকের ঝাউডাঙা পঞ্চায়েতের ঝাউডাঙা এবং হালতাচড়া গ্রাম। এই গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় চরম ভোগান্তির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন এই দুই গ্রামের ১৫০ পরিবার। দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে বিদ্যুৎ দপ্তরে দরবার করেও সুরাহা না মেলায় ক্ষোভে ফুঁসছেন গ্রামের বাসিন্দারা।
পূর্ব বর্ধমান জেলার মূল ভূখণ্ড থেকে পূর্বস্থলীর (Purbasthali) এই দুই গ্রাম সড়ক পথে কিছুটা বিচ্ছিন্ন। কারণ মাঝে বয়ে গিয়েছে ভাগীরথী। এর জেরে ঝাউডাঙা ও হালতাচড়ে বিদ্যুৎ এসেছে ভাগীরথীর অপর পাড়ের নদিয়া জেলার বেথুয়াডহরি থেকে। এলাকার বাসিন্দা প্রহ্লাদ ঘোষ শনিবার বলেন, ‘ভাগীরথীর দুই পাড়ে পোলে ১১ হাজার ভোল্টেজের বিদ্যুৎ লাইনের তার টানা হয়েছে। ভাগীরথী এখন জলে টইটুম্বুর। বিদ্যুতের তার ভাগীরথীর জলে ঠেকতে আর হাত কয়েক বাকি। সেই কারণেই গ্রামের লাইনে সাত দিন ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দিয়ে রেখেছে বিদ্যুৎ দপ্তর। এর ফলে ঝাউডাঙা ও হালতাচড় গ্রামের ১৫০টি পরিবার সাত দিন ধরে বিদ্যুৎ পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে রয়েছে।’ অপর বাসিন্দা দুর্গা মণ্ডল বলেন, ‘১১ হাজার ভোল্টেজের বিদ্যুৎতের তার যখন টানা হয়, তখনই গাফিলতি ছিল। তার উঁচু করে টানা হয়নি। সেই জন্য ঝাউডাঙা ও হালতাচড় গ্রামে বিদ্যুৎ আসার পর থেকে প্রতি বছর বর্ষায় গ্রাম বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকে। ১১ হাজার ভোল্টেজের বিদ্যুৎ লাইনের তার অ্যাঙ্গেলের সাহায্যে উঁচু করার জন্য বহুবার দুই গ্রামের মানুষ বিদ্যুৎ দপ্তরে দরবার করেছেন। কিন্তু কোনও ফল হয়নি।’
শুক্রবারও নদিয়ার বেথুয়াডহরিতে বিদ্যুৎ দপ্তরের গিয়ে বিক্ষোভ দেখান হালতাচড়া এবং ঝাউডাঙা গ্রামের বাসিন্দারা। তাঁরা জানান, বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্মীদের শনিবার গ্রামে লাইন ঠিক করতে আসার কথা ছিল। কিন্তু কেউ আসেনি। এ ভাবেই প্রতি বছর বর্ষায় ভোগান্তি চলছে। সন্ধ্যা নামলেই অন্ধকারে ঢাকা পড়ছে ঝাউডাঙা ও হালতাচড় গ্রাম। দুর্ভোগের অবসান কবে ঘটবে তা জানা নেই পূর্বস্থলীর এই দুই গ্রামের বাসিন্দাদের।
এদিকে পূর্বস্থলীর (Purbasthali) এই দুই গ্রামে অনেকেই টোটো চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। টোটোয় চার্জ না থাকায় সেই টোটোগুলিও বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে। পাশাপাশি তীব্র গরমে গ্রামের কয়েকশো মানুষ ব্যাপক অসুবিধার মধ্যে রয়েছেন। গ্রামের ছাত্র আশিস ঘোষের কথায়, ‘এখন অনলাইনে পড়াশোনো চলছে। বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল ফোনে চার্জ দেওয়ার সুযোগ না থাকায় ফোন বন্ধ হয়ে রয়েছে। তাই লাটে উঠেছে অনলাইনে পড়াশোনা। সন্ধ্যা নামলে লম্ফ অথবা হ্যারিকেনের আলোয় কোনওরকমে রাত কাটাতে হচ্ছে।’ বিদ্যুৎ দপ্তর দ্রুত ১১ হাজার ভোল্টেজের বিদ্যুতের তার উঁচু করায় ব্যবস্থা করে দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দিক, এমনটাই চাইছে গ্রামের পড়ুয়ারা।
এ বিষয়ে পূর্বস্থলী (Purbasthali) উত্তরের বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘ভাগীরথী জলে টইটুম্বুর। বিদ্যুৎতের তার নদীর জল ছুঁই ছুঁই হয়ে রয়েছে। এই অবস্থায় ওই তারে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হলে ভয়ানক বিপদ ঘটে যাবে বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে। নদীর জল না কমা পর্যন্ত কিছু করার নেই। ওই লাইনে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখতেই হবে।’

Theonlooker24x7.com সব খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে লাইক করুন ফেসবুক পেজ  ফলো করুন টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top