‘অপপ্রচার করে ভুল করেছি’, মাইক ফুঁকে গ্রামে ক্ষমা চাইলেন বিজেপি কর্মীরা

Polish_20210608_192226726.jpg

Onlooker desk: বিজেপি এ রাজ্যে কুৎসা এবং অপপ্রচার করছে বলে বিধানসভা ভোটের আগে বার বার অভিযোগ তুলেছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর সেই অপপ্রচারের তত্ত্ব স্বীকার করে নিলেন বীরভূমের লাভপুরের বিজেপি নেতা-কর্মীরা। শুধু স্বীকার করা নয়, রীতিমতো মাইকে প্রচার করে এলাকার বাসিন্দাদের কাছে ক্ষমা চাইলেন তাঁরা। লাভপুরের বিপ্রটিকুরি বুথ কমিটির সহ সভাপতি বিপ্লব দাসকে মঙ্গলবার মাইক হাতে অপপ্রচারের কথা স্বীকার করতে দেখা যায়। সেই ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়।
ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, বিজেপি নেতারা বলছেন, সদ্য শেষ হওয়া বিধানসভা নির্বাচনের আগে পঞ্চায়েতের উন্নয়নমূলক কাজের সম্পর্কে তাঁরা মিথ্যা তথ্য পরিবেশন করেছিলেন। এ জন্য গ্রামে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। সরকারের নামে এই ‘অপবাদ’ ও ‘কুকর্মের’ জন্য তাঁরা গ্রামবাসীদের কাছে ক্ষমা চান। এবং ভবিষ্যতে আর এমন কোনও কাজ কখনও না করার ব্যাপারে শপথ নেন। পাশাপাশি তৃণমূলে যোগ দেওয়ার জন্য বিধায়কের কাছে আবেদনও জানান। এই ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসতেই রাজনীতি মহলে শোরগোল পড়েছে। জেলা বিজেপি নেতৃত্ব অবশ্য এর পিছনে তৃণমূলের হাত দেখছেন। তাঁদের বক্তব্য, তৃণমূল প্রশাসনিক ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে বিজেপি কর্মীদের এ সব করাচ্ছেন। যদিও তৃণমূলের দাবি, ওই বিজেপি কর্মীরা নিজেদের ভুল বুঝতে পেরেছেন। পাশাপাশি দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে মিথ্যা অভিযোগ করেন না তা আরও একবার প্রমাণ হয়ে গেল। আসলে বিজেপির আসল রূপটা সামনে চলে আসায় শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করছেন। ওই বিজেপি কর্মীরা স্বেচ্ছায় মানুষের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন।
নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকে বারবার রাজ্য জুড়ে সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলেছেন বিজেপি নেতারা। দলের বহু কর্মী ঘরছাড়া বলে দাবি করেছেন তাঁরা। এমনকী হিংসার কথা রাজ্যপালের টুইটেও বারবার উঠে এসেছে। সর্বোপরি এদিনই দিল্লিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ-র সঙ্গে দেখা করে রাজ্যের পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তার মধ্যে লাভপুরের ঘটনা সামনে আসায় অস্বস্তিতে পড়েছেন বিজেপি নেতৃত্ব। কারণ ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, রীতিমতো টোটোতে মাইক বেঁধে নিজেদের ‘অপকর্মের’ কথা স্বীকার করছেন গেরুয়া শিবিরের নেতা-কর্মীরা। সেখানে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা ১ নম্বর সংসদের বিজেপি কর্মী বৃন্দ, ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে আগে, বিপ্রটিকুরি গ্রাম পঞ্চায়েতের উন্নয়নমূলক কাজের সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য প্রচার করে গ্রামের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি করেছিলাম। যেগুলো ভিত্তিহীন এবং সর্বতো ভাবে মিথ্যা। এর জন্য আমরা ক্ষমা চাইছি এবং শপথ করছি এরকম মিথ্যা অপপ্রচার ভবিষ্যতে করব না।’
এ প্রসঙ্গে বিজেপির জেলা সভাপতি ধ্রুব সাহা বলেন, ‘লাভপুর-নানুরে বাক্ স্বাধীনতা নেই। মানুষের মৌলিক অধিকার ক্ষুন্ন হচ্ছে। মানুষের মধ্যে চাপা সন্ত্রাস চলছে। প্রাণ ও জীবিকা বাঁচানোর তাগিদে তৃণমূলের হয়ে কথা বলতে বাধ্য করা হয়েছে। এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’ যদিও বিজেপির অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে তৃণমূল বিধায়ক অভিজিৎ সিংহ বলেন, ‘কোথাও কাউকে চাপ দেওয়া হয়নি। ওঁরা নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে ক্ষমা চেয়েছেন। তৃণমূলে আসার জন্য আবেদন করেছেন। সেটা আমরা আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব।’

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top