গাড়িচালককে ‘বিয়ে’! ফেসবুক লাইভে অভিযোগ ওড়ালেন বিজেপি বিধায়ক চন্দনা

Chandana-Bauri.jpg

বাঁকুড়া: বিয়ে নিয়ে বিতর্কে নাম জড়াল শালতোড়ার বিজেপি বিধায়ক চন্দনা বাউড়ির (Chandana Bauri)।
একেবারে হতদরিদ্র পরিবার থেকে বিধানসভায় পৌঁছেছেন চন্দনা। বাড়িতে শৌচালয় পর্যন্ত ছিল না। কিন্তু এ বার তাঁর নাম জড়াল গাড়িচালক কৃষ্ণ কুণ্ডুকে ‘বিয়ে’ করা ঘিরে বিতর্কে।
চন্দনার স্বামী ও তিন সন্তান রয়েছে। সেই সমসার ফেলে বুধবার রাতে স্থানীয় একটি মন্দিরে তিনি কৃষ্ণকে ‘বিয়ে’ করেন বলে অভিযোগ। গঙ্গাজলঘাটি থানায় এ নিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন কৃষ্ণের স্ত্রী রুম্পা। যে অভিযোগের ভিত্তিতে চন্দনা ও কৃষ্ণর বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে গঙ্গাজলঘাটি থানার পুলিশ। বাঁকুড়ার পুলিশ সুপার ধৃতিমান সরকার সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘রুম্পা কুণ্ডুর অভিযোগের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। সব দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত চলছে।’
বস্তুত, বুধবার রাতে ‘বিয়ে’ সেরে চন্দনা ও কৃষ্ণ দু’জনেই সোজা গঙ্গাজলঘাটি থানায় হাজির হন বলে পুলিশ সূত্রের খবর। পুলিশের কাছে নিরাপত্তার দাবি জানান তাঁরা। রাতভর খানাতেই ছিলেন ‘নবদম্পতি’।
এরই মধ্যে বিষয়টি জানাজানি হয়। বৃহস্পতিবার সকাল হতে থানায় হাজির হন চন্দনার স্বামী শ্রাবণ বাউড়ি। খানিকক্ষণ বাদে থানা থেকে স্বামীর সঙ্গে বেরিয়ে বাড়ির দিকে রওনা দেন বিধায়ক। সাংবাদিকদের প্রশ্ন এড়িয়ে যান।
উল্টে বাড়ি পৌঁছে ফেসবুক লাইভে কার্যত সাফাই দিতে শুরু করেন। স্বামীকে পাশে বসিয়ে চন্দনা (Chandana Bauri) দাবি করেন — আমাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক সমস্যা নিয়ে থানায় গিয়েছিলাম। সেই সমস্যা মিটিয়ে বাড়ি ফিরলাম। আমার বিরুদ্ধে বিরোধী দল কুৎসা ও অপপ্রচার করছে। তাই শালতোড়াবাসীর কাছে আমার অনুরোধ, কুৎসায় কেউ কান দেবেন না। আমি শালতোড়ার মানুষের পাশে আছি, থাকব। তাঁর সঙ্গে কৃষ্ণর একটি ছবি এ দিন প্রকাশ্যে আসে। সেটিরও কোনও গুরুত্ব নেই বলে চন্দনা দাবি করেন।
স্বাভাবিক ভাবেই বিষয়টি নিয়ে বিধায়ককে নিশানা করতে আসরে নেমেছে তৃণমূল। বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান শ্যামল সাঁতরা সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘গাড়িচালক কৃষ্ণ কুণ্ডুকে বিয়ে করে রাত দু’টোর সময় থানায় গিয়েছিলেন চন্দনা বাউড়ি (Chandana Bauri)। সেখানে তাঁরা মুচলেকা দেন। তাঁরা যে বিয়ে করেছেন সেই প্রমাণ থানায় রয়েছে। পরে নিজেকে বাঁচানোর জন্য দলের চাপে পড়ে ফেসবুক লাইভে চন্দনা বলেছেন আমরা বিয়ে করিনি।’ যদিও রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন খবর। চন্দনা তাঁর ফেসবুক পোস্টেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে সত্যিটা জানিয়ে দিয়েছেন। এ নিয়ে অযথা জলঘোলা করা ঠিক নয়।’
বিধায়কের স্বামী শ্রাবণ বাউড়িও স্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সব মিথ্যা গল্প ছড়ানো হচ্ছে।’ চন্দনার সঙ্গে কৃষ্ণের ছবি নিয়ে তাঁর প্রতিক্রিয়া, ‘ছবি এখন বানানো যায়। কে কী বলছে, ও সবে কান দিয়ে লাভ নেই।’ তবে চুপ করে থাকেননি কৃষ্ণের স্ত্রী রুম্পা। তাঁর বক্তব্য, ‘চন্দনার ভাই আমাকে ফোন করে জানায়, ওরা বিয়ে করেছে। বিধায়ক হয়ে কী করে এমন কাজ করল, জানি না। আমার কিছু বলার নেই।’

Theonlooker24x7.com সব খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে লাইক করুন ফেসবুক পেজ  ফলো করুন টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top