‘তোলাবাজ, চামচাদের নিয়ে দল চলছে’, ক্ষোভ উগরে দিলেন বিজেপি নেতা

Polish_20210714_014441824.jpg

বর্ধমান: দলীয় সভায় যোগ দিতে গিয়ে ঘাড় ধাক্কা খেয়ে দলের জেলা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন বর্ধমানের এক বিজেপির যুব নেতা। মঙ্গলবার বর্ধমান সদর জেলা বিজেপির যুব মোর্চার সহ-সভাপতি ইন্দ্রনীল গোস্বামী বলেন, ‘বিজেপি দলটা অকৃতজ্ঞ হয়ে গিয়েছে। কতকগুলো তোলাবাজ, চামচাবাজকে নিয়ে জেলা বিজেপির নতুন সভাপতি এখন দলটা চালাচ্ছেন।’ ইন্দ্রনীল একইসঙ্গে দাবি করেন, ‘বিজেপি এখন আদর্শচ্যুত দল।’ তাই তিনি সংগঠন ছেড়ে দিয়ে দলের এই ‘তোলাবাজি, নোংরামি’র বিরুদ্ধে আলাদা মঞ্চ গড়ে আন্দোলনে নামবেন বলেও জানান।
বিধানসভা ভোটে পূর্ব বর্ধমানে বিজেপির ভরাডুবির পর দলেরই এক যুব নেতার আনা এমন বিস্ফোরক অভিযোগ রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় ফেলে দিয়েছে। ইন্দ্রনীলের এদিনের বক্তব্য প্রসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যের মুখপত্র দেবু টুডু বলেন, ‘ভোটে ভরাডুবির পর এখন বিজেপি নেতারাই বিজেপির আসল স্বরূপ প্রকাশ্যে আনতে শুরু করেছেন।’
বর্ধমান জেলা বিজেপি কার্যালয়ে এদিন অনুষ্ঠিত হয় কার্যকারিনী সভা। সেই সভায় যোগ দেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। জেলা পার্টি অফিসে এদিন দিলীপ ঘোষের সঙ্গে দেখা করতে যান বর্ধমান সদর জেলা বিজেপি যুব মোর্চার সহ-সভাপতি ইন্দ্রনীল গোস্বামী। তাঁকে পার্টি অফিসে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। ইন্দ্রনীলের অভিযোগ, দিলীপ ঘোষের সামনেই পার্টি অফিসে থাকা বিজেপির কর্মীরা তাঁকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেন। এর পর পার্টি অফিস থেকে বাইরে বেরিয়ে এসেই ইন্দ্রনীল জেলা বিজেপির সভাপতি ও সহ-সভাপতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। ইন্দ্রনীল আরও বলেন, ‘জেলা সভাপতি তাঁর কিছু পেটুয়া লোকেদের পদে রেখে দলের ক্ষতি করছেন। এমনকী তোলাবাজিও করছেন।’
এদিকে ইন্দ্রনীল গোস্বামী প্রকাশ্যে সংবাদ মাধ্যমের সামনে এই সব অভিযোগ করার পরেই পরিস্থিতি সামাল দিতে আসরে নামেন জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক এস আর বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘ইন্দ্রনীল দলের যুব সহ-সভাপতি পদে রয়েছেন। এদিন দিলীপ ঘোষ দলের যে সকল কার্যকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করবেন বলেছিলেন তার তালিকা তৈরি করা হয়েছিল। সেখানে যুব মোর্চার কারও অংশগ্রহণ করার কথা ছিল না। সে কারণেই ইন্দ্রনীলকে মিটিংয়ে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। আর ইন্দ্রনীলের কাউকে তোলাবাজ মনে হতে পারে। কিন্তু তাঁর কোনও মাপকাঠি বা গ্রহণযোগ্যতা নেই। মিটিংয়ে যাদের অংশগ্রহণ করার কথা ছিল তাদেরকেই শুধুমাত্র এদিন পার্টি অফিসে ঢুকতে দেওয়া হয়েছে।’
জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক এমনটা বললেও কার্যকারিণী সভা শেষে দিলীপ ঘোষ বিক্ষুব্ধ যুব নেতার সঙ্গে দেখা করেন। তাঁদের মধ্যে মিনিট খানেক আলোচনাও হয়। মিটিং শেষে দিলীপ চলে যাওয়ার পরে ইন্দ্রনীল গোস্বামী ভোল বদলান। তিনি ফের সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেন, ‘আমাকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বার করে দেওয়ায় আমি আবেগের বসে সাংবাদিকদের কাছে দলের কিছু আভ্যন্তরীণ কথা বলে ফেলেছিলাম। কিন্তু দিলীপদা আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন।’ এ সব নিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ যদিও কোনও মন্তব্য করতে চাননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top