বাংলা ভাগের দাবি নিয়ে দুই বিজেপি সাংসদের নামে থানায় অভিযোগ ‘বাংলা পক্ষ’র

police-complaint-of-Bangla-Pokkha-against-BJP-MPs.jpg

Onlooker desk: এ বার বিধানসভা নির্বাচনের আগে ‘সোনার বাংলা’ গড়ার ডাক দিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহরা। কিন্তু ভোট মিটতেই বাংলা ভাগের দাবি তুলে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন বিজেলির দুই সাংসদ জন বার্লা ও সৌমিত্র খাঁ। এ নিয়ে আগেই ভবানীপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ। এ বার রায়গঞ্জ থানায় দুই সাংসদের নামে অভিযোগ দায়ের করল বাঙালিদের সংগঠন ‘বাংলা পক্ষ’ (Bangla Pokkho)।
গত সপ্তাহে আলিপুরদুয়ারের বিজেপি সাংসদ জন বার্লা পশ্চিমবঙ্গ ভেঙে পৃথক গোর্খাল্যান্ডের দাবি করেন। একই ভাবে জঙ্গলমহল ভেঙে আলাদা রাজ্যের দাবিতে সোমবার সরব হন বিষ্ণুপুরের বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। গেরুয়া শিবিরের দুই সাংসদের দাবি নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে ঝড় শুরু হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বেশ অস্বস্তিতে পড়েছেন বিজেপি নেতৃত্বও। তাঁরা অখণ্ড বাংলার পক্ষে বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন। এমনকী রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, ‘বিজেপি পশ্চিমবঙ্গকে একটা রাজ্য হিসেবেই মনে করে।’ তবে রাজ্যকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি তিনি। দিলীপ বলেন, ‘অপদার্থ সরকারের জন্য রাজ্য জুড়ে হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। তাই মানুষ বঞ্চনার শিকার হয়ে নানা কথা বলছেন। সাংসদরা তাঁদের এলাকার মানুষের কথাই তুলে ধরেছেন। তবে দল বাংলা ভাগকে সমর্থন করে না।’
তবে বিষয়টি নিয়ে প্রথম থেকেই প্রতিবাদের রাস্তায় নেমেছে বাংলা পক্ষ। সংগঠনের তরফে পরিষ্কার ভাবে বলা হয়েছে, কোনও ভাবেই বাংলাকে ভাগ করার প্রচেষ্টাকে মেনে নেওয়া হবে না। প্রয়োজনে বাংলা পক্ষ আন্দোলনের গতিকে আরও তীব্র রূপ দেবে।
এর আগে পৃথক গোর্খাল্যান্ডের দাবির বিরুদ্ধেও বাংলা পক্ষ (Bangla Pokkho) তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ছিল। সংগঠনের তরফে দাবি করে হয়েছে, রাজ্য সরকার সমগ্র রাজ্যের সঙ্গে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলি এবং কিছুটা পিছিয়ে থাকা রাজ্যের প্রতিটি জেলার উন্নয়নে সর্বোচ্চ জোর দিক। ওই জেলাগুলির মানুষের ক্ষোভ, সমস্যা, দাবি মেটাতে সরকার সামগ্রিক ভাবে সচেষ্ট হোক। কিন্তু কোনও ভাবেই বাংলা ভাগের কোনও দাবিকে প্রশ্রয় দেওয়া চলবে না। তা নিয়েই উত্তর দিনাজপুর জেলা বাংলা পক্ষর (Bangla Pokkho) তরফে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী পুলিশ আইনি পদক্ষেপ করবে বলেই আশা সংগঠনের সদস্যদের।
শুধু প্রতিবাদের ঝড় নয়, দুই সাংসদের দাবিকে কটাক্ষ করে পোস্টে ভরে উঠেছে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমগুলি। অনেকেই যে এলাকায় বাস করেন, সেই এলাকার নাম করে পৃথক রাজ্যের দাবি করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top