বাড়ছে সচেতনতা, বাসিন্দাদের তৎপরতায় ধরা পড়লেন ভুয়ো পরিচয় দেওয়া তিন ব্যক্তি

fake-officials-arrested-in-Kalna.jpg

বাজেয়াপ্ত সেই গাড়ি এবং ধৃত তিন ব্যক্তি

বর্ধমান: কলকাতার কসবায় ভুয়ো টিকাকরণ শিবির করে ধরা পড়েছেন নিজেকে সরকারি কর্তা বলে পরিচয় দেওয়া দেবাঞ্জন দেব। তার পর থেকে রাজ্য জুড়ে ভুয়ো আইএএস, আইপিএস, সিবিআই অফিসার পরিচয় দেওয়া অনেককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সেই খবর নিয়মিত উঠে এসেছে সংবাদ মাধ্যমে। তাতে মানুষ যে কিছুটা সচেতন হয়েছেন তার প্রমাণ মিলল পূর্ব বর্ধমানের কালনার (Kalna) একটি ঘটনায়। এলাকার বাসিন্দাদের তৎপরতায় গ্রেপ্তার (arrest) হলেন ‘ন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড সোশ্যাল জাস্টিস ব্যুরো ইন্ডিয়া’ লেখা গাড়িতে ঘুরে বেড়ানো তিন ব্যক্তি। ধৃতরা কেন বা কী উদ্দেশ্যে গাড়িতে এমনটা লিখেছিলেন তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারী অফিসাররা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত তিন জনের নাম আজিজ আলি শেখ, জাকির হোসেন ও আমজাদ হোসেন। আজিজ ও জাকির মুর্শিদাবাদ জেলার চকবাজার এলাকার বাসিন্দা। অপর ধৃত আমজাদ হোসেন মুর্শিদাবাদ থানা এলাকার বাসিন্দা। তিনি আজিজ ও জাকিরের ব্যবহৃত গাড়ির চালক। শুক্রবার তিন জনকে আটক করে পুলিশ। পরে তাঁদের গ্রেপ্তার (arrest) দেখানো হয়। শনিবার তাঁদের কালনা (Kalna) মহকুমা আদালতে পেশ করে তদন্তের প্রয়োজনে সাত দিন পুলিশি হেফাজতে চেয়ে আবেদন জানান তদন্তকারী অফিসার। বিচারক তিন দিন পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার দুপুরে কালনার (Kalna) ডাঙাপাড়া এলাকায় একটি হোটেলের সামনে এসে দাঁড়ায় সাদা রঙের দামি একটি চার চাকা গাড়ি। গাড়ি থেকে নেমে তিন জন ওই হোটেলের ভিতর ঢুকে যান। ওই সময় স্থানীয় লোকজন দেখেন, গাড়িটির সামনে নীল ও লালচে রঙের একটি ‘প্লেট’ লাগানো রয়েছে। সেই প্লেটে লেখা ‘ন্যাশানাল সেক্রেটারি- ইউথ, সেল- ন্যাশানাল হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড সোশ্যাল জাস্টিস ব্যুরো ইন্ডিয়া।’ গাড়িতে এমন সব লেখা দেখে এলাকার লোকজনের সন্দেহ হয়। গাড়ির আরোহীরা ভুয়ো পরিচয়ে ঘুরতে পারেন বলে তাঁদের মনে হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইতেই দু’পক্ষের মধ্যে বচসা বেধে যায়। এর মাঝে খবর পৌঁছয় কালনা থানায়। পুলিশ তড়িঘড়ি ওই হোটেলের সামনে পৌঁছে গাড়ির প্লেটে ওই লেখা পড়ে তাদেরও সন্দেহ জাগে। এর পরেই গাড়ি সমেত তিন আরোহীকে নিয়ে থানায় চলে যায় পুলিশ। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে পুলিশ জানতে
পারে, আজিজ আলি ও জাকির হোসেন বিভিন্ন ধরনের পাথর (গ্রহরত্ন) বিক্রি করেন। সেই কাজে বিভিন্ন জায়গায় তাঁরা যাতায়াত করেন। টোল ট্যাক্স ফাঁকি দিতে বা নাকা চেকিং টপকে যাতে অনায়াসে যাতায়াত করতে পারেন তার কৌশল আঁটেন পাথর ব্যবসায়ীরা। সেই কারণেই তাঁরা গাড়িতে ‘ন্যাশানাল হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড সোশ্যাল জাস্টিস ব্যুরো ইন্ডিয়া’ লিখেছিলেন। তবে এর বাইরে আর কোনও উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ধৃতদের কাছ থেকে গয়নায় ব্যবহারের বেশ কিছু পাথর পাওয়া গিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কালনার (Kalna) এসডিপিও সপ্তর্ষি ভট্টাচার্য বলেন, ‘ধৃতদের প্রকৃত পরিচয় উদ্ধার এবং তাঁদের সঙ্গে অন্য কোনও চক্রের যোগ আছে কি না, তা জানতে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এখন চারিদিকে ভুয়ো আধিকারিক গ্রেপ্তারের খবর আমরা সংবাদ মাধ্যমে জেনেছি। ফলে এখন অনেকেই বিষয়টা নিয়ে সতর্ক। ওই গাড়ির প্লেটে লেখা দেখে সকলের সন্দেহ হয়। তার পরই পুলিশে খবর দেওয়া হয়েছিল।

Theonlooker24x7.com সব খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে লাইক করুন ফেসবুক পেজ  ফলো করুন টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top