লোকাল ট্রেন চালুর দাবিতে ফের অবরোধ, পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর, ধুন্ধুমার মল্লিকপুর স্টেশনে

agitation-demanding-resumption-of-local-trains.jpg

বারুইপুর: লোকাল ট্রেন চালুর দাবিতে বৃহস্পতিবার ফের অবরোধ করলেন যাত্রীরা। গন্ডগোলের ছবি উঠে এল শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখার বেশ কিছু স্টেশনে। এদিন সকাল থেকেই অবরোধ করা হয় সোনারপুর-সহ একাধিক স্টেশনে। তার মধ্যে বড়সড় গন্ডগোল বাধে মল্লিকপুর স্টেশনে। সেখানে দফায় দফায় বিক্ষোভ দেখান যাত্রীরা। পুলিশের গাড়ি লক্ষ করে ছোড়া হয় পাথর। রেল পুলিশ ও রাজ্য পুলিশের দু’টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।
উল্লেখ্য, গত বছর ২৩ মার্চ থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত, দীর্ঘ ৯ মাস বন্ধ ছিল ট্রেন পরিষেবা। সংক্রমণ কমার পর গত ১১ নভেম্বরে ফের লোকাল ট্রেন চালু হয়। এর মধ্যে আসে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। রাজ্যে নতুন করে জারি হয় বিধিনিষেধ। তার আওতায় লোকাল ট্রেন বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে কিছু ট্রেন রেলকর্মীদের জন্য আগাগোড়াই চালানো হচ্ছিল। সম্প্রতি সেই স্পেশ্যাল ট্রেনে স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশ, বিএসএনএল, হাই কোর্ট ও সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের ছাড় দেওয়া হয়েছে। তবে চরম বিপাকে রয়েছেন শহরতলি এবং গ্রামাঞ্চল থেকে শহরে কাজ করতে আসা মানুষ। কারণ বিধিনিষেধের মধ্যে সরকারি, বেসরকারি অফিসে কম সংখ্যক লোক নিয়ে কাজ চালু রাখার কথা বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে অফিস কর্তৃপক্ষ হাজিরার কথা বললেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে কর্মীদের যাতায়াতের ব্যবস্থা করেননি। এদিকে বাস-ট্রেনের মতো গণ পরিবহন বন্ধ। ফলে চরম বিপাকে পড়েছেন বিভিন্ন জায়গা থেকে শহরে কাজ করতে আশা কর্মচারীরা। শুধু অফিস কর্মী নন, সমস্যা পড়েছেন গৃহ পরিচারিকার কাজ করা মানুষরাও।
এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে বুধবারই সোনারপুরে রেল অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন যাত্রীরা। এদিন সেই বিক্ষোভ বিভিন্ন স্টেশনে ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, তাঁদের সংসার চালানো দায় হয়ে উঠেছে। গণ পরিবহন চালু না হলে এমনিতেই না খেয়ে মরতে হবে তাঁদের। তাই কোভিড সতর্কতা মেনে অবিলম্বে লোকাল ট্রেন চালানোর দাবি জানান তাঁরা। সেটা যতদিন না হচ্ছে, ততদিন অন্তত স্টাফ স্পেশ্যাল ট্রেনে সকলকেই উঠতে দেওয়া হোক।
এদিন অবরোধ তুলতে গেলে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় মল্লিকপুর স্টেশনে। পুলিশকে লক্ষ করে পাথর ছুড়তে শুরু করেন বিক্ষোভকারীরা। এতে বেশ কয়েক জন জখমও হয়েছেন। তবে পর পর দু’দিন যাত্রী বিক্ষোভের জেরে নড়েচড়ে বসেছেন রেল কর্তৃপক্ষ। আগের দিনই রেলের তরফে জানানো হয়েছিল, রাজ্য অনুমতি দিলে লোকাল ট্রেন চালানো হবে। এদিনও রেলের তরফে জানানো হয়েছে, ট্রেন চালানোর বিষয়ে নবান্নকে চিঠি পাঠানো হবে। তবে যাত্রী অনুপাতে স্টাফ স্পেশ্যালের সংখ্যা খুবই কম। তাই সেখানে যাত্রীদের উঠতে না দিয়ে নবান্নের সবুজ সঙ্কেত পেলে লোকাল ট্রেন চালাতে প্রস্তুত রেল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top