ভোটে ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর খর্বকায় দুই ভাইয়ের খবর প্রকাশ হতেই বাড়িতে টিকার ব্যবস্থা করল প্রশাসন

Polish_20210722_235331754.jpg

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: ভোটের সময় নিঃস্বার্থ ভাবে কাজ করেও ভ্যাকসিন পাচ্ছিলেন না নির্বাচনী ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর খর্বকায় দুই ভাই। বিশেষ ভাবে সক্ষম এই দুই ভাইয়ের কথা বুধবার সংবাদ মাধ্যমে উঠে আসতেই নড়েচড়ে বসলেন প্রশাসনিক কর্তারা। বৃহস্পতিবারই পূর্ব বর্ধমানের মেমারি থানার কলানবগ্রামে তাঁদের বাড়িতে পৌঁছে যান স্বাস্থ্যকর্মীরা। সেখানে এলাকার বিধায়ক, পঞ্চায়েত সমিতির সভা, মেমারি ১-এর যুগ্ম বিডিও-র উপস্থিতিতে ভ্যাকসিন দেওয়া হয় সঞ্জীব মণ্ডল ও মানিক মণ্ডলকে। এতদিন বেশ কয়েকবার বার বার লাইনে দাঁড়িয়ে হতাশ হয়ে ফিরে এসেছিলেন তাঁরা। এ বার বাড়িতে বসে ভ্যাকসিন পেয়ে খুশি দুই ভাই।
কলানবগ্রামে এক চিলতে ছোট্ট মাটির বাড়ি সঞ্জীব ও মানিকের। দুই ভাই ছাড়াও বাড়িতে রয়েছেন বৃদ্ধা মা আন্না মণ্ডল। সরকারি ভাতার সামান্য কয়েকটা টাকা আর দু’চারটে গোরু-ছাগল, মুরগি প্রতিপালন করে সামন্য যেটুকু রোজগার হয় তা দিয়ে কোনও রকমে দু’বেলা দু’মুঠো মুখে ওঠে। এমনই এক হতদরিদ্র পরিবারের খর্বকায় ভাতৃদ্বয়কে ২০২১ বিধানসভা ভোটে ২৬৫ মেমারি বিধানসভার ভোট আইকন করা হয়। নির্বাচন কমিশনের ব্যবস্থাপনায় বিশেষ ভাবে সক্ষম এবং ৮০ ঊর্ধ্ব ভোটারদের ভোটদানে উৎসাহিত করার ব্যাপারে তাঁরাই হয়েছিলেন প্রধান মুখ।
কোভিড অতিমারীর মধ্যে এ বার এই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন হয়। তার জন্য নির্বাচন কমিশন বেশ কিছু নতুন নিয়ম জারি করে। বিশেষ ভাবে সক্ষম ও ৮০ ঊর্ধ্ব ভোটাররা যাতে পোস্টাল ব‍্যালটে ভোট দিতে পারেন তার ব্যবস্থা করে নির্বাচন কমিশন। এছাড়াও কোভিড রোগীরাও যাতে একই সুবিধা পান সেই ব্যবস্থাও কমিশন ধার্য করে। এই সমস্ত উদ্যোগ নিয়ে নির্বাচন কমিশন গোটা রাজ্য জুড়েই প্রচার শুরু করে। সেই কাজে নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা মেমারি বিধানসভার আধিকারিকরা আইকন হিসাবে বেছে নেন খর্বকায় দুই ভাই সঞ্জীব মণ্ডল ও মানিক মণ্ডলকে। ভোটের সময় নিঃস্বার্থ ভাবেই এই দুই ভাই ট্রাইসাইকেলে চড়ে গণতন্ত্রের সর্বশ্রেষ্ঠ উৎসবে সবাইকে অংশ নেওয়ার জন্য আহ্বান জানানোর কাজও চালিয়ে যান। তাঁদের এই কর্মকাণ্ড ভোটার মহলে যথেষ্ট সাড়া ফেলে। এখন ভোট মিটে গিয়েছে। আর ভোট মিটে যাওয়ার তাঁরা টিকা পাচ্ছিলেন না বলে জানিয়েছিলেন। সেই বিষয়টি সংবাদ মাধ্যমে উঠে আসতে নানা মহলে তৎপরতা দেখা যায়।
এদিন খর্বকায় দুই ভাইয়ের বাড়িতে মেডিক্যাল টিম নিয়ে হাজির হন মেমারির বিধায়ক মধুসূদন ভট্টাচার্য, মেমারি-১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ও যুগ্ম বিডিও। সেখানেই তাঁদের টিকাকরণ হয়।
বিধায়ক বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খবর পেয়েই ব্লক প্রশাসন উদ্যোগী হয়। তবে ব্লক প্রশাসনের বিষয়টি মাথায় রাখা উচিত ছিল।’ আর সঞ্জীব, মানিকের কথায়, ‘বার বার লাইনে দাঁড়িয়ে ফিরে আসতে হওয়ায় ভেবেছিলাম হয়তো টিকা আর পাব না। কিন্তু বাড়িতে বসে টিকা পাওয়ায় সত্যিই ভালো লাগছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top