ইটভাটার পরিত্যক্ত ঘরে উদ্ধার জারিকেন ভর্তি তাজা বোমা, শুরু রাজনৈতিক তরজা

Bombs-recovered-in-Galsi.jpg

নিষ্ক্রিয় করা হচ্ছে বোমা

বর্ধমান: ভোট পর্ব মিটে যাওয়ার পরেও পূর্ব বর্ধমানে বোমা উদ্ধারের ঘটনায় বিরাম নেই। ফের গলসির উচ্চগ্রাম এলাকার একটি ইটভাটার পরিত্যক্ত ঘর থেকে উদ্ধার হল তাজা বোমা। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মঙ্গলবার রাতে গলসি থানার পুলিশ ওই ইট ভাটায় অভিযান চালিয়ে প্রাস্টিকের জারিকেনে ভরে রাখা ৯টি তাজা বোমা উদ্ধার করে। বুধবার বম্ব স্কোয়াডের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার হওয়া বোমাগুলি নিষ্ক্রিয় করেন। ইটভাটার পরিত্যক্ত ঘরে কারা, কি উদ্দেশ্যে বোমাগুলি মজুত করেছিল তার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এর মধ্যে বোমা উদ্ধার নিয়ে তুঙ্গে উঠেছে শাসক ও বিরোধীদের চাপানউতোর।
ভোটের আগে থেকেই পূর্ব বর্ধমান জেলার বিভিন্ন জায়গায় বোমা উদ্ধার হয়। এমনকী বোমা বিস্ফোরণে খাস বর্ধমান শহরে এক শিশুর মৃত্যুও হয়। যা নিয়ে তোলপাড় হয়েছিল রাজ্য রাজনীতি। নির্বাচনে অবশ্য তেমন কোনও বড় গন্ডগোল এ জেলায় হয়নি। তবে নির্বাচনের এতদিন পড়েও বিভিন্ন জায়গা থেকে বোমা উদ্ধার হওয়ায় প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। অনেকের বক্তব্য, ভোটের সময় ব্যবহারের জন্যই এগুলি মজুত করা হয়েছিল। আবার অনেকের মতে, এলাকার দখলের লড়াইয়ে এখনও অনেক জায়গায় গন্ডগোল হচ্ছে। ফলে ক্ষমতা প্রদর্শনের জন্যও বোমা মজুত হতে পারে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, উচ্চগ্রামের মাঠের ধারে ওই ইট ভাটার মাটির ঢিবির পাশে শ্রমিকদের থাকায় ঘর রয়েছে। বর্ষা শুরু হয়ে যাওয়ায় শ্রমিকরা ইটভাটা ছেড়েছেন। তাই ভাটার বেশিরভাগ ঘরের দরজা ইট দিয়ে বন্ধ করে রাখা ছিল। সেই রকমই একটি ঘরের ভিতর প্লাস্টিকের জারিকেনে ভরে কেউ বোমাগুলি মজুত করে রেখেছিল। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মঙ্গলবার রাতে পুলিশ ইটভাটায় অভিযান চালায়। স্থানীয়রা বলেন, গত শনিবার উচ্চগ্রামে শাসক দলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে মারপিট হয়। তাতে দু’পক্ষের কয়েক জন আহত হন। পুলিশ মারপিটের ঘটনায় জড়িত সাত জনকে গ্রেপ্তার করে। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে মঙ্গলবার রাতে এলাকার ইটভাটা থেকে বোমা উদ্ধারের ঘটনায় বাসিন্দাদের মধ্যে যথেষ্ট আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
বোমা উদ্ধার নিয়ে রাজ্যের শাসকদলের দিকেই অভিযোগের আঙুল তুলেছে বিজেপি নেতৃত্ব। জেলা বিজেপির সহ সভাপতি রমন শর্মা বলেন, ‘কয়েক দিন আগে গলসির যে এলাকায় শাসকদলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে মারপিটের হয়েছিল সেই এলাকা থেকেই বোমা উদ্ধার হয়েছে। বোমা কারা মজুত করে রেখেছিল তা গলসির মানুষ ভালোই বুঝতে পারছেন।’ যদিও অভিযোগ অস্বীকার করে তৃণমূলের জেলার মুখপত্র প্রসেনজিৎ দাস বলেন, ‘মিথ্যা অভিযোগে বিজেপির জুড়ি নেই। ভোটের আগে প্রার্থী নিয়ে গলসিতে বিজেপির গোষ্ঠী কোন্দল চরমে উঠেছিল। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। বোমা কারা মজুত করেছিল তা পুলিশি তদন্তেই পরিষ্কার হয়ে যাবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top