‘ট্যুরিস্ট গ্যাং কোথায়’, বজ্রপাতে মৃতদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন অভিষেকের

Abhishek-Banerjee-in-Murshidabad.jpg

মৃতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে সান্ত্বনা অভিষেকের

Onlooker desk: দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলা মিলিয়ে একদিনে বজ্রপাতে ২৯ জনের মৃত্যুর পর তাঁদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর কথা বলেছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মৃতদের মধ্যে মুর্শিদাবাদ জেলার ছিলেন ৯জন। বুধবার মুর্শিদাবাদ পৌঁছে পরিবারগুলির সঙ্গে দেখা করলেন তিনি। মৃতদের পরিবারকে সরকারি ভাবে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কাজ ঘটনার পরের দিন থেকেই শুরু হয়েছে। এদিন দলের তরফে মুর্শিদাবাদে মৃতদের পরিবার পিছু দু’লক্ষ টাকা করে তুলে দেন অভিষেক। এই বিপর্যয়ের পর প্রধানমন্ত্রীও আর্থিক ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছিলেন। তবে সে টাকা এখনও পৌঁছয়নি পরিবারগুলির হাতে। ফলে এদিন তা নিয়েও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি অভিষেক। তাঁর মন্তব্য, ‘ওঁরা বলে আর আমরা কাজে করে দেখাই।’ এদিন অভিষেকের সঙ্গে ছিলেন দুই মন্ত্রী আখরুজ্জমান ও সাবিনা ইয়াসমিন এবং জেলা পরিষদের সভাধিপতি আবু তাহের।
এদিকে ভোটের আগে আসা বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতাদের কটাক্ষ করে বলেন, ‘ভোটের আগে যারা কলাপাতায় ভাত খাওয়া, খাটিয়াতে বসে ছবি তোলা, গ্রামে ঘুরে বেরিয়েছেন, সেইসব ট্যুরিস্ট গ্যাংয়ের ছবি এপ্রিল, মে মাসে দেখা গিয়েছে। তারপর আর তাঁদের দেখা যাচ্ছে না।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার সাধারণ মানুষের পাশে আছে।’


দিন কয়েক আগেই দলের গুরু দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন অভিষেক। এর মধ্যে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় গিয়ে সেখানকার মানুষের পাশে দাঁড়ান অভিষেক। এ বার বজ্রপাতে মৃতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন তিনি। এদিন বেলার দিকে বহরমপুরে পৌঁছন অভিষেক। সেখানে বানজেটিয়া ও হাতিনগরের দুই পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। মৃত প্রহ্লাদ মোরারির দুই সন্তানকে কাছে টেনে নেন তাদের জড়িয়ে ধরে সমবেদনা জানান। নেতাকে সামনে পেয়ে পরিবারের অসহায় অবস্থার কথা তুলে ধরার পাশাপাশি দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা প্রকাশ করেন প্রহ্লাদের স্ত্রী। অভিষেক তাঁকে আশ্বস্ত করেন। এরপর যান মৃত অভিজিৎ বিশ্বাসের বাড়ি। তাঁর দুই সন্তানকে ভালো করে পড়াশোনার কথা বলেন। দু’টি পরিবারের তরফে অভিষেকের কাছে সরকারি কাজের ব্যবস্থা করে দিতে অনুরোধ করা হয়। অভিষেক তাঁদের এ জন্য আবেদন করতে বলেন।
এর পর জেলার বাকি মৃতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে কথা বলেন অভিষেক। সারা বছর পরিবারগুলির পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে বলেন, ‘এত বড় ক্ষতিতে অর্থ দিয়ে পূরণ করা যায় না। তবু আমরা সরকারি ভাবে এবং দলগত ভাবে সারা বছর মানুষের পাশে আছি।’ এর পরে কেন্দ্রের সাহায্য ঘোষণাকে কটাক্ষ করে বলেন, ‘কেন্দ্র তো মুখে সাহায্যের কথা বলেছে। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিপর্যয়ের পরের দিনই ক্ষতিপূরণের চেক পৌঁছে দিয়েছেন। এটাই পার্থক্য।’

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top