প্রতিবেশীর স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানোয় খুন ৬৫-র বৃদ্ধ নুর আলম

Polish_20210720_011101537.jpg

বর্ধমান: দিন কয়েক আগে বাড়ির পাশেই গ্যারাজ থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার হয়েছিল নুর আলম মিদ্দের (৬৫) দেহ। পূর্ব বর্ধমান জেলার মন্তেশ্বর থানার দীর্ঘনগরের বাসিন্দা এই বৃদ্ধের মৃত্যুর পরই সম্পত্তির লোভে খুনের অভিযোগ তুলেছিলেন তাঁর একমাত্র মেয়ে। তাঁর অভিযোগ ছিল, শ্বশুরের সম্পত্তি পাওয়ার লোভে তাঁর স্বামীই এই খুন করেছে। কিন্তু পুলিশ ঘটনার তদন্তে নামতেই ঘটনা অন্যদিকে মোড় নেয়। জানা যায়, জামাইয়ের হাতে শ্বশুর খুন নয়, প্রতিবেশী বধূর সঙ্গে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার কারণেই খুন করা হয় ওই বৃদ্ধকে। ঘটনায় প্রতিবেশী ওই বধূর স্বামী মুসা শেখকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গত ১৪ জুলাই সকালে বাড়ি লাগোয়া নিজেরই গ্যারাজের মধ্যে রক্তাক্ত অবস্থায় নুর আলম মিদ্দের দেহ উদ্ধার হয়। এই ঘটনার পর বাবাকে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন মৃতের একমাত্র মেয়ে হাসিরা বিবি। তাঁর অভিযোগ ছিল, স্বামী নসরত শেখ তাঁর উপর অত্যাচার চালাতেন। তাই তিনি বধূ নির্যাতনের মামলা দায়ের করেছেন। এবং শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে এসে বাপের বাড়িতেই থাকতেন। কিন্তু নসরত তাঁর বাবার সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করত। এ নিয়ে বাবার সঙ্গে নসরতের ঝামেলা চলছিল। তার জেরে নসরতই বাবাকে খুন করেছে। কিন্তু পুলিশ তদন্ত শুরু করতেই উঠে আসে অন্য তথ্য।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বয়সে প্রৌঢ় মুসা তাঁর বছর ৩৫-এর তৃতীয় স্ত্রীকে নিয়ে দীর্ঘনগর এলাকায় থাকতে শুরু করেন। গাড়িতে করে আয়ুর্বেদিক ওষুধ বিক্রি করেন। পাশাপাশি বাড়িতে থাকায় নুর আলমদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই সূত্রেই মুসার স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন ৬৫ বছরের বৃদ্ধ নুর আলম মিদ্দে। বিষয়টি জানার পর নুর আলমের সঙ্গে মুসার ঝামেলা শুরু হয়। এর পর একদিন স্ত্রীর সঙ্গে নুর আলমকে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখে ফেলায় খুনের পরিকল্পনা শুরু করেন। সেই মতো হামল দিস্তা দিয়ে মাথায় আঘার করে খুন করেন মুসা।
এদিকে পুলিশ তদন্তে নেমে এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে মুসার সঙ্গে ঝামেলার কথা জানতে পারে। এর পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দাবি, টানা জেরার মুখে ভেঙে পড়ে খুনের কথা কবুল করেন মুসা। সোমবার ধৃতকে কালনা মহকুমা আদালতে পেশ করলে বিচারক সাত দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
কালনার এসডিপিও সপ্তর্ষি ভট্টাচার্য বলেন, ‘টানা জেরায় মুসা শেখ খুনের কথা কবুল করেন। তার পরেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে খুন হওয়া ওই বৃদ্ধের সঙ্গে ধৃতের স্ত্রীর বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের বিষয়টি উঠে এসেছে। ধৃতকে হেফাজতে নিয়ে খুনের ঘটনার পুনর্নির্মাণ করা হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top