মন্দিরের ভিড়ে সোনার হার ছিনতাই, গ্রেপ্তার ছয় মহিলা চোর-সহ এক গাড়িচালক

Buroraj-Temple-theft.jpg

বর্ধমান: দেবতার দরবারে হাজির হয়েছিলেন ছ’জন মহিলা। ফিল্মি কায়দায় এক মহিলা ভক্তকে ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়ে তাঁর গলায় থাকা সোনার হার ছিনতাই (theft) করে তাঁরা পালান বলে অভিযোগ। তবে শেষরক্ষা হয়নি। পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলী থানার জামালপুরের বুড়োরাজের মন্দিরে (Buroraj Temple) ভক্ত সেজে হাজির হওয়া ওই ৬ মহিলা চোর ও তাঁদের গাড়ির চালকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। বাজেয়াপ্ত হয়েছে গাড়িটি।
ধৃতরা হুগলি জেলার বাসিন্দা বলে পুলিশ জানিয়েছে। তাঁদের কাছ থকেই উদ্ধার হয়েছে খোওয়া যাওয়া সোনার হারটি। পুলিশের অনুমান, ধৃতরা আন্তঃরাজ্য চুরি (theft) চক্রে জড়িত। মঙ্গলবার সাত ধৃতকে কালনা মহকুমা আদালতে পেশ করে পুলিশ। ধৃতদের ছ’দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার পূর্বস্থলীর (Purbasthali) জামালপুরের (Jamalpur) বুড়োরাজের মন্দিরে (Buroraj Temple) পুজো দেওয়ার জন্য অনেক ভক্ত লাইনে দাঁড়ান। তাদের মধ্যে ওই ছ’জন মহিলাও ছিলেন। দুপুরে হঠাৎই লাইনে হুড়োহুড়ি-ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। কয়েক জন ভক্ত মাটিতে পড়ে যান। সেই ফাঁকে স্বপ্না দাস নামে এক মহিলার গলা থেকে সোনার হার ছিনতাই (theft) করে গাড়িতে চেপে পালিয়ে যান ভক্ত সেজে আসা মহিলারা।
কিন্তু স্বপ্না উপস্থিত বুদ্ধি হারাননি। তিনি চোরেদের গাড়ির নম্বর ও রং জানান মন্দির চত্বরে থাকা সিভিক ভলান্টিয়ারদের। সিভিক ভলান্টিয়ারদের মাধ্যমে খবর পেয়ে পূর্বস্থলী থানার পুলিশ ওই গাড়িটির খোঁজে নেমে পড়ে। গাড়ি-সহ মহিলা চোরের দলটিকে ধরে ফেলেন তদন্তকারীরা ।
কালনা মহকুমা পুলিশ আধিকারিক সপ্তর্ষি ভট্টাচার্য বলেন, ‘পুলিশি তৎপরতায় বুড়োরাজের মন্দিরে ভক্ত সেজে এসে চুরি করে পালানো ৬ মহিলা-সহ সাত জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে চুরি যাওয়া সোনার হারটি। মনে করা হচ্ছে, চোরেদের এই দল বিভিন্ন জায়গায় এমন ঘটনা ঘটিয়েছে। ধৃতদের হেফাজতে নিয়ে সবিস্তার খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
অন্যদিকে, এক চালকল মালিকের কাছ থেকে দু’লক্ষ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে জামালপুরে (Jamalpur)। পুলিশ সুপারের অফিসের অদূরেই এই ঘটনা ঘটায় চাঞ্চল্য এলাকাজুড়ে। তদন্তে নেমেছে বর্ধমান থানা।
মঙ্গলবার বাদামতলায় রাইস মিল সংগঠনের একটি বৈঠক ছিল। রায়নার শ্যামসুন্দরের চালকল মালিক, জামালপুরের বাসিন্দা কামালউদ্দিন মণ্ডলও সেখানে হাজির হন। বৈঠক শেষে বাদামতলা মোড় এলাকায় গদি থেকে টাকা আনতে যান তিনি। টাকা কাগজে মুড়িয়ে গাড়ির চালককে ফোনে ডাকেন। গাড়ির জন্য রাস্তায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিলেন কামালউদ্দিন। সেই সময় দুই বাইক আরোহী তাঁর হাত থেকে টাকা ছিনিয়ে নিয়ে বাদামতলার পুলিশ সুপারের অফিসের সামনের রাস্তা দিয়েই পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ।
ঘটনার কথা জেনে এলাকায় হাজির হন সংগঠনের সদস্যরা। পুলিশ সুপারের কাছে বিষয়টি জানান তাঁরা। পরে বর্ধমান থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন কামালউদ্দিন মন্ডল। তবে বাইক আরোহীদের মুখে মাস্ক থাকায় তাঁদের চেহারা বুঝতে পারেননি কামালউদ্দিন। জেলা পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দুষ্কৃতীদের ধরার চেষ্টা চলছে।

Theonlooker24x7.com সব খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে লাইক করুন ফেসবুক পেজ  ফলো করুন টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top