বাজারে অভিযান চালিয়ে ৩০০ লিটার নকল স্যানিটাইজার বাজেয়াপ্ত, গ্রেপ্তার চার

Polish_20210709_011442573.jpg

বর্ধমান: করোনার প্রকোপ শুরুর সময় থেকে সকলের কাছে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস হয়ে দাঁড়িয়েছে হ্যান্ড স্যানিটাইজার। ফলে রাতারাতি চাহিদাও বেড়েছে আকাশ ছোঁয়া। এখন বাজারে বেশির ভাগ দোকানের সামনে থরে থরে সাজানো থাকে রংবেরঙের স্যানিটাইজার। বিক্রিও হচ্ছে দেদার। কিন্তু সেগুলি আসল না নকল তা বোঝা সাধারণ মানুষের পক্ষে সম্ভব না। এর মধ্যে বাজারে অভিযান চালাতেই ঝুলি থেকে বেরিয়ে এল বিড়াল। প্রায় ৩০০ লিটার নকল স্যানিটাইজার বাজেয়াপ্ত করা হল বর্ধমানের বাজারে তল্লাশি চালিয়ে।
বৃহস্পতিবা বর্ধমান শহরে যৌথ অভিযান চালায় ড্রাগ কন্ট্রোল ব্যুরো ও পুলিশের এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ। তাতেই উদ্ধার হয়েছে ৩০০ লিটার নকল স্যানিটাইজার। গ্রেপ্তার করা হয়েছে চার জনকে। এই ঘটনা জানাজানি হতেই বাসিন্দাদের মধ্যে চাঞ্চল্য ছড়ায়। এতদিন তাঁরা স্যানিটাইজারের নামে কোন তরল ব্যবহার করেছেন তা ভেবেই অনেকে হতবাক। বাসিন্দাদের বক্তব্য, করোনা মোকাবিলার জন্য স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে বলা হচ্ছে। এতে তো করোনা ভাইরাস ধ্বংস হবেই না উল্টে চামড়ার ক্ষতি পারে। তাই নকল এই কারবারের পুরো চক্রকে ধরে কড়া শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
গত বছর করোনার প্রকোপ শুরুর সময় স্যানিটাইজারের চাহিদা তুঙ্গে উঠেছিল। চাহিদার তুলনায় জোগান কম থাকায় সেই সময় অবৈধ মজুতের অভিযোগ শোনা যাচ্ছিল নানা জায়গা থেকে। এখন অবশ্য জোগান অনেক বেশি। ওষুধের দোকানের পাশাপাশি মুদিখানা থেকে স্টেশনারি— বাজারে বিভিন্ন দোকানের সামনে সাজানো থাকছে নানা রঙের বোতলবন্দি স্যানিটাইজার। এর মধ্যে কিছু দিন ধরেই পুলিশের কাছে খবর আসছিল, বর্ধমানের বাজারে রমরমিয়ে চলছে নকল স্যানিটাইজারের কারবার। সেই খবর পেয়ে এদিন ড্রাগ কন্ট্রোল ব্যুরো ও পূর্ব বর্ধমানা জেলা পুলিশের এনফোর্সমেন্ট ব্র্যাঞ্চের আধিকারিকরা বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালান।
শহরের কালীবাজার এলাকার বাসিন্দা প্রসেনজিৎ দাসের বাড়িতে অভিযান চালাতেই উদ্ধার হয় ২৫০ লিটার নকল স্যানিটাইজার। এর পর শহরের কল্যাণী মার্কেট সংলগ্ন এলাকা থেকে উদ্ধার হয় আরও ৫০লিটার নকল স্যানিটাইজার। ড্রাগ কন্ট্রোল ইনস্পেক্টর কৌশিক মাইতি বলেন, ‘গোপন সূত্রে খবর পাওয়ার পর এদিন বর্ধমান শহরের বেশ কয়েকটি জায়গায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে প্রায় ৩০০ লিটার নকল স্যানিটাইজার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ওই সব স্যানিটাইজারের বোতল ও ড্রামে কোনও ব্যাচ নম্বর, উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ কিছুই ছিল না। এমন স্যানিটাইজার বিক্রির অভিযোগে চার জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাজেয়াপ্ত হওয়া সমস্ত স্যানিটাইজার পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হচ্ছে। নকল স্যানিটাইজার বিক্রি বন্ধে এমন অভিযান জেলা জুড়ে চলবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top