দুয়ারে সরকার শিবিরে লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে বিশৃঙ্খলা, আহত ৩

Duare-Sarkar-Bardhaman.jpg

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান
দুয়ারে সরকার (Duare Sarkar) কর্মসূচিতে ’স্বাস্থ্য সাথী’ কার্ডের লাইনে দাঁড়ানোকে কেন্দ্র করে সোমবার ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটে গেল বর্ধমানের (Bardhaman) টাউন হলে।
এদিন বর্ধমান (Bardhaman) শহরের টাউন হলে দুয়ারে সরকার (Duare Sarkar) কর্মসূচিতে সব থেকে বেশি মানুষ স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের জন্য লাইনে দাঁড়ান। আবেদনপত্র জমা নিয়ে নতুন কার্ডও দেওয়া হচ্ছিল আবেদনকারীদের। ওই সময় লাইনে দাঁড়ানোকে কেন্দ্র করে হঠাৎই দু’পক্ষের মধ্যে প্রথমে বচসা বেধে যায়। পরে তা হাতাহাতিতে গড়ায়। তাতে এক মহিলা-সহ ৩ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত একজন পুলিশ কর্মীও রয়েছেন। এই ঘটনা দেখে লাইনে দাঁড়ানো অনেকে ভয়ে আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করে দেন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বর্ধমান থানার পুলিশ। স্বাস্থ‍্যসাথী কার্ডের লাইনে দাঁড়ানো সবাইকে বুঝিয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপর টাউনহলে পুনরায় শুরু হয় দুয়ারে সরকার (Duare Sarkar) কর্মসূচির কাজ।
এদিন টাউন হলে লাইনে দাঁড়ানো শহর বর্ধমানের (Bardhaman) বাসিন্দা প্রবীণা সবিতা দত্ত, যুবক রাহুল মণ্ডল প্রমুখরা বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধায় একাধিক জনমুখী প্রকল্প চালু করেছেন। তার সুবিধা সবাই নিতে চাইবেন, এটাই স্বাভাবিক। তবে এদিন টাউনহলে যে বিশৃঙ্খলা ঘটল তা অনভিপ্রেত। আগামী দিনে ফের যাতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে তার জন্য প্রশাসনকে আরও বেশি সতর্ক থাকা দরকার।’
একই রকম বিশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এদিন জেলার ভাতার থানার বলগোনা সারদামণি উচ্চ বিদ্যালয়ে আয়োজিত শিবিরেও দেখা গিয়েছে। এদিন ভোর থেকেই শয়ে শয়ে মানুষ ভিড় করেন ওই বিদ্যালয়ে দুয়ারে সরকারের (Duare Sarkar) শিবিরে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে আবেদনের জন্য এখানের দুয়ারে সরকার কর্মসূচির প্রথম দিনে মহিলাদের ভিড় ছিল নজর কাড়া। বেলা ১০টায় স্কুলের গেট খুলতেই ভিতরে ঢোকার জন্য হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। ভিড়ের চাপে ঠেলাঠেলিতে কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে গিয়ে শুশ্রূষা করা হয়।
বলগোনা পঞ্চায়েতের প্রধান আমজাদ শেখ বলেন, ‘ভিড় বেশি হওয়ায় সমস্যা তৈরি হয়েছিল। ঘটনার পর পঞ্চায়েতের প্রতিনিধি থেকে শুরু করে পুলিশকর্মীরা তড়িঘড়ি ব্যবস্থা নেন। পরে আর কোনও সমস্যা হয়নি।’ ভাটাকুলের বাসিন্দা ফতেমা বিবি বলেন, ’প্রতিটি গ্রামের স্কুলে শিবির করলে এত ভিড় ও হয়রানি হবে না। প্রশাসন তার ব্যবস্থা করলে সবাই নির্বিঘ্নে ফর্ম জমা করার সুযোগ পাবেন।’ ভাতারের বিধায়ক মানগোবিন্দ অধিকারী বলেন, ‘প্রথম দিন বলে হয়তো সমস্যা হয়েছে। তবে সাধারণ মানুষ যাতে কোনও ভাবেই সমস্যায় না পড়েন, আবেদন করতে এসে কেউ যাতে বঞ্চিত না হন তার জন্য সবরকম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

Theonlooker24x7.com সব খবরের নিয়মিত আপডেট পেতে লাইক করুন ফেসবুক পেজ  ফলো করুন টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top